লাখ টাকার নিচে সেরা ১০ বিজনেস আইডিয়া

    সেরা ১০ বিজনেস আইডিয়া
    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    সূর্যকে কেন্দ্র করে যেমন সৌরজগৎ চলে, দুনিয়াটাও ঠিক তেমনই ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই চলছে। প্রথম কথা ব্যবসা করতে হলে অভাবটা খুঁজে বের করতে হবে। তাই অভাব খুঁজে বের করুন। অভাবটাকে পুঁজি করেই গড়ে উঠতে পারে কোনো এক রমরমা ব্যবসা। 

    অভাব মানে কিন্তু চাহিদাও বটে। যে এলাকায় সুপেয় পানির অভাব, শুধুমাত্র সেখানেই সম্ভব মিনারেল ওয়াটারের নামে ওয়াটার সাপ্লাইয়ের ব্যবসা। আর যদি সেখানে সুপেয় পানির অভাব না থাকে কিংবা মিনারেল ওয়াটারেরও উপস্থিতি থাকে সরব, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন, আপনার সাথে আরো বাঘা বাঘা দশ বারোজন কম্পিটিটর অর্থাৎ প্রতিযোগী থাকবে। যথাযথভাবে ভোক্তাদেরকে খুশি না রাখতে পারলে কিংবা মার্কেট গ্রাউন্ড অ্যানালাইসিসে ত্রুটি থাকলে আপনার ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনাও কম নয় বৈকি!

    যাই হোক, পুঁজি কম? প্যারা নাই! চিল! স্বল্প পুঁজিতে কয়েক গুণ লাভের ব্যবসাও কিন্তু এখন দেশে খুব ভালো ভালো কিছু ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

    আপনাদের জন্য একে একে কিছু ব্যবসার কথা তুলে ধরছি। খুব খেয়াল করে কিন্তু ভাইয়া-আপুরা! কে জানে, এগুলো থেকে যেকোনো একটা বিজনেস আইডিয়া নিয়েই আপনিও কাজে নেমে যেতে পারেন।

    ১.  ফুড ভ্যান

    ফুড ভ্যানের বিজনেস আইডিয়া

    একটা ফুড ভ্যান, ২০২০ এর বাজারমূল্য অনুযায়ী ৭০-৮০,০০০ টাকা। ব্যস , হয়ে গেলো। গ্যস সিলিন্ডার আর কোনোমতে ব্যটারী বিদ্যুতের  সংযোগ! একেবারে দারুণ একটা ব্যাপার।

    যেমন, মিরপুর ১৩ নম্বর হামদর্দ স্কুলের পাশে প্রথমে দু-এক জন শুরু করেছিলো ফুড ভ্যানের ব্যবসা। আবার হঠাৎ করে একদিন দেখা গেলো, একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু মিলে একটা ফুড ভ্যান কিনে রাস্তার মোড়ে হাজির।

    এক দিন দু দিন করে করে, ওই ফুড ভ্যানের পরিচিতি এমনভাবে ছড়ালো যে, আশেপাশে দু চারটা নামীদামী রেস্তোরাঁর চাইতে তাঁদের ফুড ভ্যানের কদর তখন বেশি হয়ে গেলো। এখন সেখানে গেলেই সাড়ি সাড়ি ফুড ভ্যানের দেখা মিলবে।

    আপনি চাইলে কিন্তু আপনার কমিউনিটিতেই স্যুপ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন নাগেটস, চাপ, চিকেন ফ্রাই এসব নিয়ে বসে যেতে পারেন। হতে পারে, আপনার গ্রামেই। যেখানেই মনে হবে, এই ব্যাপারটা  নাই, অর্থাৎ একটা ফুড ভ্যান হলে ধুন্ধুমার জমে যাবে। কেল্লা ফতে। কোনো কথা নাই বার্তা নাই। চুপচাপ ব্যবসায় নেমে পড়তে পারেন। অনেকটাই ঝুঁকিবিহীন।

    তবে অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি বাদল কিংবা এনার্জি শরটেজ মোকাবেলার জন্য বাড়তি প্রস্তুতি রাখা বেশ কাজে দিতে পারে অপ্রত্যাশিত কোনো ঝামেলা নেগোশিয়েশনে।

    যাক, হাজার ষাট-সত্তর যোগ হয়ে গেলে নিজের পরিচিত কেউ না থাকলে যোগাযোগ সোজা বিক্রয় ডট কম, ই বাই ডট কমের মতো অনলাইন ই-কমার্সগুলোর কাছে।

    ধরনা দেবার তো কিছু নেই। টাকা দিয়েই কিনছেন। চাইলে মনের মতো করে আধুনিক সুযোগ সুবিধা যোগ করতে পারেন ভ্যানে। আর আশেপাশে গ্যারেজগুলোতে বলে কয়েও বানিয়ে নিতে পারেন নিজের ইচ্ছামতো কাস্টমাইজড ফুড ভ্যান।

    তবে হ্যাঁ, স্থান নির্বাচনে ক্যাবলাগিরি করলে চলবে না। এই ব্যবসাটা অনেকাংশেই কিন্তু ওই স্থান নির্ধারণের উপরেই নির্ভর করবে।

    খাবারের মূল্য অবশ্যই রিজনেবল হতেই হবে। অযাচিত দাম বাড়িয়ে রাখবার দরকার নেই, আবার কমানোরও প্রয়োজন নেই।

    চাইলে মাঝে মাঝে প্যাকেজ সিস্টেম দিয়ে, মূল্যহ্রাস সহ আরো ভিন্ন ভিন্ন স্ট্র্যাটেজী দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন, কাজে লাগলে তো লাগলো, না লাগলে বাতিল।

    বাবুর্চি মানে ওই ভাজা, রান্না-বান্না, খাবারের সিস্টেম করার পাবলিক নিজেই হতে পারেন আর নিজে হতে না চাইলে এমন কাউকে রাখতে পারেন যে আসলে কাজগুলো করে আনন্দ পাবে/পেতে পারে এবং সানন্দে উপভোগ করবে।

    ২.  ফুলের দোকান

    ফুলের দোকানের বিজনেস আইডিয়া

    ফুলের এই ব্যবসাটা পুরো বিশ্বব্যাপী বহুল পরিচিত একটা ব্যবসা। কে হায়, এ জগতে ফুল ভালোবাসতে না চায়! মোটামুটি সবাই-ই তো ফুল কিনবে! কেনে সাধারণত!

    শুধু বুঝতে হবে, কোথায়, কখন, কীভাবে! বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবসাটা লাভের ব্যবসা বলেই পরিচিত। আর বাঙ্গালীদের তো কথাই নেই! হোক কোনো সাধারণ বার্ষিক স্কুলের অনুষ্ঠান, হোক বিয়েবাড়ি, হোক প্রণয়ের উপাখ্যান! ফুল, সে তো সবারই চাই। 

    তবে হ্যাঁ, ব্যবসায়ীকে কিন্তু মাথায় রাখতে হবে টাইমিং! কতোক্ষণ ফুলটা ফ্রেশ থাকবে, কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ফুলগুলোকে বেশি সময় ফ্রেশ রাখা সম্ভব, কোন কোন সময়ে, কোন কোন জায়গায়, কোন ধরনের কাস্টমাররা তাঁর দোকানের ফুল কিনতে চাইবেন।

    কোন সময় যে কোন ফাঁকে ফুলগুলো বিক্রি হয়ে যাবে, টের ও পাওয়া যাবেনা। খুব অল্প টাকায় ঝোপ বুঝে কোপ মারতে পারলে সফলতা পায়ে এসে টিপ্পনী কাটতে তো চাইবেই। 

    আর হ্যাঁ, কাঁচামাল?

    মানে ফুলগুলো সুন্দর সুন্দর পানি দিয়ে ঝরঝরা অবস্থায় শাহবাগে আসলে দেখতে পাবেন কতো সুন্দর সাজিয়ে রাখা হয়। যাই হোক, কাছাকাছি থাকলে ওরাই অনেক ভাল পথঘাট বলতে পারবে আপনাকে।

    আর তাছাড়া ঢাকায় কিংবা ঢাকার বাইরে, নার্সারি নেই কোথায়? নার্সারি থেকেই তো সংগ্রহ করবেন ফুল? তাই না! পরিচিত হলেই বরং ভাল।

    আর চাইলে নিজে নিজেও বাড়িতে ছোটখাটো জমি নিয়ে ফুল চাষের চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আর এই ব্যবসা লাভজনক হবে কিনা? ঠিকমতো জেনে-বুঝে-শুনে করতে পারলে সব ব্যবসাতেই লাভ করা যায় আসলে।

    আরও পড়ুনঃ ২০২২ সালের ৩২টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া (32 Profitable Business ideas in 2022)

    ৩.   ফটোগ্রাফী বিজনেস

    ফটোগ্রাফি বিজনেস

    সবচেয়ে সহজে টাকা আয় করবার মধ্যম পন্থা একটা! খুব বেশি না একটা ক্যামেরার দাম! তবে হ্যাঁ, প্রফেশনালি কিছু করতে গেলে কিছু হাই কনফিগারেশান ক্যামেরা , লেন্স, এসবে বেশ খরচ পড়তেই পারে।

    কিন্তু শুরুটা কিন্তু খুব সাধারণ দামের উচ্চ মানসম্পন্ন ক্যামেরা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। ধীরে ধীরে যখন পুঁজিটা বাড়বে , তখন কিন্তু আপনি পুরোদস্তুর একটা ফটোগ্রাফী টিম বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

    আর তখন বড় বড় ইভেন্টগুলো ছাড়াও ডেইলী ব্যাসিসে লোকাল ক্লায়েন্ট থাকবে আপনার। সঙ্গে ফ্লিপারট, গেটির মতো সাইটগুলোতে বিক্রি করতে পারবেন নিজেদের তোলা একেকটা ছবি বেশ চড়ামূল্যে।

    শুধু ফটোগ্রাফী নয়, যেকোনো ব্যবসার জন্যই নেটওয়ার্কিংটা কিন্তু হরহামেশা লাগবেই লাগবে।

    ক্যামেরা কই পাওয়া যায়?

    এটাও আবার বলে দেবার মতো কিছু? বসুন্ধরা , যমুনা ফিউচার পার্ক, আই ডিবি , ঢাকা, চট্টগ্রাম , কোথায় নাই? শহরগুলোতেই ভালো ভালো ক্যামেরার দোকান আছে! আর তা না চাইলে অনলাইনেই তো কিনে ফেলতে পারেন। সুন্দর, ঘরের সামনে এসে ডেলিভারী দিয়ে যাবে।

    ৪ . ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার

    কোন ঘরে, কোন দোকানে এখন ইন্টারনেট লাগেনা, বলেন?

    সিম কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেট ডেটাপ্যাকের রিটেইলার, রিসেলাররা কিন্তু দামাদাম ব্যবসা করছে, একেবারেই অনেকটাই বিনা পুঁজিতে। চাইলেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ভালো একটা লাভের ব্যবসা শুরু করতে পারছেন আপনি!

    আর ব্রডব্যান্ডের লাইন গ্রামে একবার নিতে পারলেই হয়! কম্পিটিটর দু একজন থাকলেও এগিয়ে যাবার সুন্দর সুযোগ কিন্তু আপনাকে হাতছানি দিতেই পারে।

    এইখানে আপনার কোন কাজ নাই। টাকা দেবেন। বাকিটা কোম্পানি দেখবে। কোম্পানি আবার ডীল করবে গভমেন্ট এজেন্সিগুলোর সাথে।

    শুধু আপনার সুন্দর সার্ভিস নিশ্চিতে যতোটুকু করার সেটুকুই করবেন। এই যেমন দুজন দক্ষ লোককে সাথে নিতে পারেন।

    ৫. হোম মেইড ফুড বিজনেস

    ঠিক এই মুহূর্তে, এই সমসাময়িক সময়টাতে কতো কতো মানুষ যে একটু ফ্রেশ ফুডের আশায় রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে দুর্নিবার ঘূর্ণিপাকে ঘুরপাক খায় প্রতিনিয়ত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। যদিও পুরো ব্যাপারটাই অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত।

    হোম মেইড ফুডের ব্যবসায়িক চাহিদাই যদি কখনো তৈরি না হতো, সেটাই তো কতো ভাল হতো তাই না! তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন অবস্থা কিন্তু বর্তমান অবস্থায় শুধু কল্পনাতেই মানায়।

    তাই, চাইলেই আপনি খুব অল্প খরচে সুবিধাটা নিতে পারেন। গ্রাহক খুশি থাকলে, গ্যারান্টি নয় শুধু ওয়ারেন্টিও দেয়া যায় আপনাকে এ ব্যাপারে যে, আপনার লগ্নি ছাড়াই দ্বিগুণ লাভ চলে আসবে।

    হোম মেইড ফুড বিজনেস কিন্তু আপনি একেবারে ঠিক ছে ঠিক ৫০০০ টাকা দিয়েও শুরু করতে পারেন।

    কাঁচামাল?

    বাজার থেকে নিজের পরিবারে খাবার জন্য যা কেনেন , ওসবই। ভিন্ন কিছু করতে চাইলে ভিন্ন কিছু কিনে আনবেন। সব ওই মুদিতেই পাবার কথা। না পেলেও সব ওই বাজারের মধ্যে আশেপাশেই থাকবে।

    আর দরকার হতে পারে আপনার একটা ব্যবসার জন্য পরিচয়। অর্থাৎ ব্র্যান্ড নেইম, লোগো, ইউনিকনেস এসব ব্যাপার স্যাপার। এজন্য ওই যে শপিং ব্যাগ, প্যাকেজিং এর ব্যাগ , রশিদ এগুলো কিন্তু নিজের আলাদা ডিজাইন করা নিজস্ব ইউনিক ব্র্যান্ড নেইম সম্বলিত করে তৈরী করেই ভালো করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে নেমে পড়তে পারেন।

    ৬. মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট বিজনেস

    বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং ইদানীং কালে জনপ্রিয়তার সোনালী দিনগুলো কাটাচ্ছে। বিকাশ, রকেট, নগদ, শুধু শহরেই নয়, উপশহর, গ্রাম, গঞ্জ সব খানেই ছড়িয়ে গেছে, এমনকি বৈশ্বিক পরিমন্ডলেও বেশ সুনামের সাথে আন্তর্জাতিক লেনদেনেও যুক্ত হচ্ছে তাঁরা। প্রতিদিনেই লক্ষ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। 

    মোবাইল ব্যংকিং এর ব্যবসার সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখলেন, সাথে সিম কার্ড ও বিক্রি করলেন। এক ঢিলে দুই পাখি!

    মোবাইল অ্যাকসেসরিস, কম্পিউটার অ্যাকসেসরিস, খেলার ব্যাট বল জার্সি , এসব সাথে রাখলে কিন্তু এক ঢিলে দুই নয়, কয়েকটা পাখিই মারা সম্ভব। 

    দরকার শুধু একটা ট্রেড লাইসেন্স। আর এক লাখ টাকা, সে তো শুধু যথেষ্ট নয়, মহা যথেষ্ট। 

    যারা কিনা কিছুই জানেন না, বোঝেন না গোছের মানুষ, কোনোই দক্ষতা নাই কোনোকিছুর, তারাও কিন্তু চাইলেই সহজেই এই ব্যবসাটাকে আলিঙ্গন করে নিতে পারেন। এবং হ্যাঁ, এক লাখের কমেই সম্ভব!

    নিজের আলাদা কোনো কাজ নেই। ব্যাংক দেখবে সবকিছু। আর যদি মেগাবাইটের বিজনেস করতে চান, সিম কোম্পানি দেখবে সমস্ত কিছু।

    আপনার কাজ শুধু কাজটা ভালোভাবে শেখা আর যেকোনো জটিলতায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জানানো। খরচ শুধু ওই সিম কেনা আর কাজকর্ম শিখতে যদি কাউকে দু পয়সা খাওয়াতে চান তো!

    আরও পড়ুনঃ ঘরে বসে আয় : ইনভেস্ট ছাড়াই ঘরে বসে অনলাইনে আয় করার উপায়

    ৭. ওয়েব সাইট বিজনেস

    দক্ষতা আছে? চেষ্টা আছে? বুদ্ধি আছে? খুলুন ওয়েবসাইট। নিজেই লিখতে পারেন ব্লগ, চাইলে অন্য কাউকে দিয়েও লেখাতে পারেন। গুগল মামা আছে আপনার জন্য। সাইট টা র‍্যাংক করান! গুগল মামা আপনার সাইটে অ্যাড দেখানোর জন্য রীতিমতো পাগলা হয়ে যাবে।

    আপনি চাইলে ইজোয়িককেও গুগল মামার জায়গায় বসিয়ে দেখতে পারেন। কি সুন্দর! আহ! বসে বসে আয়!

    আর ভাল্লাগছেনা? বেঁচে দেন সাইটটা আগ্রহী কারো কাছে চড়া মূল্যে। আবার নতুন সাইট খোলেন। নাহলে একসাথে খুলতে পারেন অনেকগুলো! অনলাইন পোর্টালগুলো তো চলছেই দেধারছে!

    আপনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন এখন অনলাইনে, নিউজ পোর্টাল, ম্যাগাজিন, জার্নাল, কি সম্ভব নয়! মন চাইলো, করলেন! পুঁজি! এক লাখ?? ঢের বেশি হয়ে যাবে তো!…!

    আর মার্কেটপ্লেসে নিজের দক্ষতাকে ঠিকঠাক প্লেস করাতে পারলে কিন্তু ফিরে তাকানোর কোনো জো থাকবেনা আপনার কাছে, চাইলেও পারবেন না হয়তো! তখন আবার ওয়েবসাইট ডিজাইনের নিজস্ব এক কোম্পানি না খুলে বসেন আর কি!

    আর শিখতে চাইলে আপনার আশেপাশেই অনেক বড় ভাই হয়তো দক্ষ। এমনকি কাউকে শেখাতেও তুমুল আগ্রহী হয়ে বসে আছেন। না হলে টাকা দিয়েই শিখলেন!

    আর তাছাড়া অনলাইনে প্রচুর ইন্সটিটিউশন আছে, প্ল্যাটফর্ম আছে। শিখতে তো পারেবেন ই, আয় ও করবেন, তাঁর উপর কেউ কেউ তো আবার অ্যাক্রেডিটেশন ও দেয় ইদানীংকালে।

    লাভজনক আরও ব্যবসার আইডিয়া জানতে এই অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন। 

    ৮.  গিফট আইটেমের ব্যবসা

    গিফট শপের ব্যবসা

    গিফট আইটেমের ব্যবসা চালাতে চাইলে অনেক সুন্দর সুন্দর গিফট আইটেম রাখতে হবে। হ্যাঁ! অনেক দামী দামী সব গিফট আইটেম থাকবে। অনেক বড় পরিসরের দোকান থাকবে!

    কিন্তু  আপনার হাতের পূঁজি কিন্তু ওই লাখখানেক। তাই ছোট পরিসরে ধীরে সুস্থেই শুরু করুন ব্যবসাটা! সময় নিন! বড় হতে খুব একটা বেশি সময় নেবে না বৈকি !

    হ্যাঁ, শুরু করবেন লাখ টাকা দিয়েই। স্থান নির্বাচন করুন। এবং হ্যাঁ, চাহিদা অনুযায়ী বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন ।

    যেহেতু গিফট শপ, ডেকোরেশনে কিন্তু এক্সট্রা খরচ লাগতেই পারে। পুতুল, ফটোফ্রেম, কাঠের শৌখিন আসবাব, বাঁশের কারুকার্য, চাবির রিং, খেলনা, সাজগোজের জিনিস, রান্নার জিনিস। একটা থেকে আরেকটার চাহিদা। সুন্দর কিন্তু।

    এগুলো আপনি সরাসরি গুলিস্থান, নিউ মার্কেট, কাঁটাবন, বাইতুল মোকাররম মার্কেট, চক, স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে সুলভ মূল্যে কিনে (পাইকারিতে) বিক্রি করতে পারেন।

    আর তাছাড়া আপনার যদি গ্রামে কোনো দক্ষ কেউ ,বা এসব তৈরীতে সুখ্যাতি আছে, এমন  কারও থেকেও জিনিসগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। আর প্রত্যেক জিনিসেরই ফ্যাক্টরী হয় বাংলাদেশে না হয় রিটেইলার তো আছেই আছে।

    পণ্য কাঁচের, কাঠের, প্লাস্টিকের, বাঁশের, টাংস্টেন, নেক্রনেরও হতে পারে। জায়গা বুঝতে হবে। যেখানে সবাই ক্ষুধার্ত, হোটেল খুঁজবে, খাবার খুঁজবে, সেখানে গিফট শপ বসালে কিন্তু চলবে না ।

    আপনাকে ক্রেতা, ক্রেতার সক্ষমতা, ক্রেতার চাপ কখন বাড়ে, দোকানে কেমন লাইটিং হলে গিফটগুলো আরেকটু সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করা যাবে এসমস্ত কিছু মাথায় রেখেই কিন্তু আপনাকে গিফট শপের ব্যবসায় নামতে হবে।

    এবং মোদ্দা কথা, আপনি অনলাইন – অফলাইন দুই জায়গাতেই ব্যবসা করতে পারছেন এক দোকান দিয়ে। চাপ অনুযায়ী কর্মী নিতে পারবেন! লাভ না হয়ে যাবে কোথায়।

    বিশেষ দিনগুলোতে তো ব্যবসা রমরমা, ভিড় উপচে পড়বে। ব্যবসা চলবে সারা মাস। কোনোকিছু ইচ্ছাকৃত নষ্ট না করলে নষ্ট হবার ও সুযোগ নাই।

    গিফট আইটেমের পাশাপাশি আইসস্ক্রিম, কোল্ড ড্রিংক্স আর মেয়েদের কানের দুল রেখে দিলেই কেল্লা ফতে। দেখা যাবে, ব্যবসার উপরে ব্যবসা। পণ্যের ভিন্নতা থাকতে হবে কিন্তু। আবার একেক সময় একেক পণ্যের চাহিদা থাকবে। যারপর নাই আপডেট থাকাটাই জরুরী।
    

    ৯. অনলাইন রিটেইলার

    সবথেকে কম পুঁজিতে বোধ হয় এটাই বেশি সম্ভবযোগ্য। হতে পারে আপনি প্রোডাক্টের রিটেইলার (প্রোডাক্ট- কৃত্রিম ফুল, ফুলদানি, কাঁচের কারুকার্য, মাটির শৌখিন জিনিসপত্র ইত্যাদি) আবার এমনও হতে পারে, সার্ভিস প্রোভাইডারদের  সাথে কাস্টমারদের যোগসূত্র স্থাপন করে দেয়াই আপনার ব্যবসা।

    নানারকম বৈধ প্রোডাক্ট আর সার্ভিস কাস্টমারদের কাছে পৌছানোই আপনার দায়িত্ব। মাঝখানে আপনার প্রয়োজন সবকিছু সুচারু হাতে দেখভাল করবার মতো দক্ষ একটা জনশক্তি! নিশ্চিত করুন তা, লাভটাও নিশ্চিত হবে।

    ১০.  বাজারের ব্যাগ বানান, স্বল্প লগ্নিতে অবিশ্বাস্য লাভ যোগান।

    আপনার আশেপাশে পাটের ক্ষেত আছে। পাট পাওয়া যায়। পাট শুকিয়েই তো হয় চটের ব্যাগ। না হলে বাজারেই ব্যাগের প্লাস্টিক কিনতে পাবেন, রেনন পাবেন। শুধু বানানোটা শিখে নেবেন কিংবা যারা পারে, তাঁদেরকে কাজে লাগিয়ে দিতে পারেন।

    ৫০০০ কেন ২০০০ টাকায় ও শুরু করা যাবে এই ব্যাগ বানানোর ব্যবসা। এক লাখ তো অনেক দূরের কথা। তবে অবশ্যই কিন্তু আপনার বাজারজাত এর কাজটা হতে হবে দক্ষ হাতে। আলাদাভাবে অর্ডার নিয়েও কিন্তু করতে পারবেন আলাদা বিনিয়োগ।
    

    হ্যাঁ, উপরি উল্লেখিত বাক্যটি আপনি লেগে থাকলেই সত্যি সত্যিই আপনার ক্ষেত্রেও বাস্তব হয়ে ধরা দিতে পারে। কী করবেন? হ্যাঁ, কাঁচামাল কিনুন!

    চট কিনুন! পরিবেশবান্ধব ব্যগ তৈরি করুন। বাজারজাত করুন! সফলতাকে মুঠোবন্দী করুন।

    সবগুলো ব্যবসাই কিন্তু লাখের কম পুঁজিতে সফলতাকে আপনার তালুবন্দী করতে সহায়তা করতে পারে। বেশি চিন্তা না করে, ঠিক করে ফেলুন, কীভাবে কী ঠিকঠাক করছেন আপনার  নতুন ব্যবসার জন্য! ব্যবসা মানেই ঝুঁকি।

    দুনিয়াতে অবিমিশ্র নেই কিছুই। ইতিবাচক দিক ও থাকবে, নেতিবাচক দিক ও থাকবে। এবং নেতিবাচক দিকগুলোকে সামলানোর ক্ষমতাও থাকতে হবে কিন্তু। আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তবে দাঁড়ানোর ব্যাপারটাই যেন সামনে না আসে সেটা নিশ্চিত করাই কিন্তু সবথেকে বেশি জরুরী।


    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    কপিরাইট © 2021 BDBasics || সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত