দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ, বাংলা অর্থ ও আরবি অডিও

    দোয়া কুনুত অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও অডিও
    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    দোয়া কুনুত একটি বিশেষ দোয়া। যার মাধ্যমে, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা:) আমাদেরকে অন্যান্য দুয়ার মত নম্রতা, আনুগত্য এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করতে শিখিয়েছেন। এই বিশেষ দোয়া বিতর নামাজের শেষ রাকাতে পড়া হয়।

    আমরা অনেকেই দোয়া কুনুত পারি না। আজকে আপনার সুবিধার্থে দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ, অর্থসহ ও আরবি অডিও আর্টিকেলে দেয়া হয়েছে।

    দোয়া কুনুত শব্দের অর্থ কি?

    “কুনুত” শব্দের অর্থ হল আনুগত্য করা। আর দোয়া একটি আরবি শব্দ যা প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি অর্থ হল আনুগত্য, নম্রতা এবং ভক্তি।

    দোয়া কুনুত আরবি

     اَللَّهُمَّ إنا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِئْ عَلَيْكَ الخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ ئَّفْجُرُكَ اَللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّئ وَنَسْجُدُ وَإِلَيْكَ نَسْعأئ وَنَحْفِدُ وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشآئ عَذَابَكَ إِنَّ عَذَابَكَ بِالكُفَّارِ مُلْحَقٌ 
    

    দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ

    আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্‌তাঈ’নুকা, ওয়া নাস্‌তাগ্‌ফিরুকা, ওয়া নু’’মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশ কুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ’, ওয়া নাতরুকু মাঁই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া লাকানুসাল্লী, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস’আ, –ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা–আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্‌ফারি মুলহিক্ব।

    নোটঃ আরবি উচ্চারণের সাথে বাংলা লিখার কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। সবচেয়ে ভালো উপায় হল তিলওয়াত শুনে মুখস্ত করা।

    দোয়া কুনুত অডিও

    দোয়া কুনুত অর্থসহ

    হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামায পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত।

    দোয়া কুনুত ইংরেজি অর্থ

    O Allah! We implore You for help and beg forgiveness of You and believe in You and rely on You and extol You and we are thankful to You and are not ungrateful to You and we alienate and forsake those who disobey You. O Allah! You alone do we worship and for You do we pray and prostrate and we betake to please You and present ourselves for the service in Your cause and we hope for Your mercy and fear Your chastisement. Undoubtedly, Your torment is going to overtake infidels O Allah!

    দোয়া কুনুত পিডিএফ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

    দোয়া কুনুত কি কোরআনের কোনো সুরার অংশ?

    দোয়া কুনুত এর কথা কোরআনে উল্লেখ করা হয় নি, এটি রাসূল (সঃ) এর সুন্নাহ। আবার অনেকেরই প্রশ্ন জাগে দুয়া কুনুত কি কোনো সুরার অংশ কি না?

    না। দোয়া কুনুত কোনও সুরার অংশ না বরং এটি একটি বিশেষ দোয়া। যা সাধারণত বিতর নামাজে পড়া হয়।

    দোয়া কুনুত কখন পড়তে হয়?

    দোয়া কুনুত এমন একটি দোয়া যা বিতর নামাজে পড়া হয়। বিতর নামাজ বা সালাতুল বিতর নামাজ মুসলিমরা এশার বা তাহাজ্জুদ নামাজের শেষে পড়ে। এই বিতর নামাজ একটি বেজোড় সংখ্যক রাকাত বিশিষ্ট একটি নামাজ। এশার নামাজের ওয়াক্ত থেকে ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত বিতর নামাজের ওয়াক্ত থাকে। আপনি এর মধ্যে যে কোনো সময় পড়তে পারেন।

    দোয়া কুনুত বিতর নামাজের ৩য় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা মিলানোর পরে পড়া হয়। বিতর নামাজ নিয়ে বিভিন্ন মাযহাব অনুযায়ী মুসলিমদের মধ্যে মত বিরোধ দেখা যায়। আমাদের দেশে সাধারণত ৩ রাকাত বিতর নামাজ পড়া হয়। শেষ রাকাতে এই দোয়া কুনুত রুকুর আগে বা পরে পড়া হয়।

     আরও পড়ুনঃ সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত : বাংলা উচ্চারণ,অর্থ,আরবি অডিও 

    বিতর নামাজে দোয়া কুনুত না পারলে কি করবেন?

    বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়া সুন্নাহ বা মুস্তাহাব। কিন্তু হানাফি মাযহাব থেকে এটিকে ওয়াজিব বলা হয়ে থাকে।

    কিন্তু অবশ্যই দোয়া কুনুত বিতর নামাজে পাঠ করা খুবই উত্তম। আপনি যদি না পারেন, তাহলে আপনার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিখা উচিৎ।

    ইমাম নববী বলেন: অগ্রগণ্য মাযহাব অনুযায়ী, কুনুতের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট দোয়া নেই। তাই এর পরিবর্তে দোয়া সম্বলিত এক বা একাধিক কোরআনের আয়াত বা অন্য যে কোন দোয়া পড়তে পারেন। কিন্তু যে দোয়া হাদিসে বলা হয়েছে সেটা পড়াই উত্তম।
     ইমাম নববীর ‘আল-আযকার, পৃষ্ঠা-৫০

    দোয়া কুনুত না জানলে এর পরিবর্তে কি অন্য কিছু পড়া যাবে?

    আগেই বলা হয়েছে যে, বিতরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়া সুন্নাহ। এটা পড়া মানে হল আপনি দোয়া পড়লেন। আর দোয়া কুনুতকে সালফে সালেহীনগণ অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অনেকেই এটাকে সুন্নাহ আবার অনেকেই এটাকে ওয়াজিব বলে থাকেন।

    দোয়া কুনুত না জানলে আপনি কি যেকোনো দোয়া পড়তে পারবেন?

    মহান ইমাম হানাফি, ইমাম আউমেদ রিদা খান থেকে বর্ণিত,

    “দোয়া কুনুত পাঠ করা সুন্নাত। যদি কেউ সেই দোয়াটি না জানেন তাহলে নিচের দোয়াটি পড়তে পারেন।

    ربنا آتنا فی الدنیا حسنۃ وفی الآخرۃ حسنۃ وقنا عذاب النار

    অর্থঃ হে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বোত্তম কল্যাণ দান করো এবং আগুনের আযাব হতে আমাদের রক্ষা করো।

    আর যদি এই দোয়াও না জানেন তাহলে

    أَللّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا

    অর্থঃ হে আল্লাহ, আমাদের ক্ষমা করুন।

    দোয়াটি ৩ বার পড়তে পারেন।“

    ফাতাওয়া আল-রিদাউইয়াহ, খন্ড ৭,পৃ: 485

    দোয়া কুনুত পাঠ করা অবশ্যই উত্তম। তাই দোয়া কুনুত শিখার আগ পর্যন্ত আপনি এই দোয়া গুলো বিতর সালাতে পাঠ করতে পারেন।

    সূরা ইখলাস দোয়া কুনুত এর পরিবর্তে পাঠ করা যাবে?

    কুনুত এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দোয়া করা। বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের পরিবর্তে ৩ বার সূরা ইখলাস পড়া যাবে না। কারণ সূরা ইখলাস কোনও দোয়া সম্বলিত সূরা নয়।

    দোয়া কুনুত নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা

    বিতরের নামাযে রমযান মাসে দোয়া কুনুত পড়ার হুকুম সম্পর্কে শাইখ বিন বায (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,

    তিনি বলেন, বিতরে্র সালাতে দোয়া কুনুত পড়া সুন্নত।

    তারপর আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিতরের নামাজে প্রতি রাতে দোয়া কুনুত পড়া কি সলফে সালেহীন থেকে বর্ণনা করা হয়েছে?

    তিনি বলেন:

    এটি পালন করা সুন্নাত। কারণ নবী (সঃ) হুসাইন বিন আলী (রাঃ) কে বিতরে নামাযে ‘দোয়া কুনুত’ শিখাতেন। তিনি কখনও নিয়মিত পড়ার নির্দেশ দেননি।


    উবাই বিন কাব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে,মসজিদে তিনি যখন সাহাবীদের নামায পড়াতেন,তখন তিনি কোনও কোনও রাতে দোয়া কুনুত পড়তেন না। সম্ভবত তিনি এটা এ কারণে করতেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে তা বাধ্যতামূলক নয়। আর আল্লাহই শক্তির উৎস।

    ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা (২/১৫৯)

    তাছাড়া হাদিস সম্পর্কে জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

    দোয়া কুনুত সম্পর্কে হাদিসঃ

    ১) ফজরে কুনুত –

    মুহাম্মদ বিন সীরীন বর্ণনা করেছেন: আনাসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “নবী (সা:) কি ফজরের নামাজে কুনুত পাঠ করেছিলেন?” আনাস ইতিবাচক উত্তর দিলেন। তাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “তিনি কি রুকু করার আগে কুনুত পাঠ করেছিলেন?” আনাস উত্তর দিলেন, “তিনি কিছু সময় ( প্রায় এক মাসের জন্য) রুকু করার পর কুনুত পাঠ করেছিলেন।”

    সহীহ আল বুখারী ১০০১

    ২) সুবহ নামায ও মাগরিবে কুনুত-

    আল-বারা বিন আজিব বর্ণনা করেছেন: “নবী (সঃ) সুবহ ও মাগরিবের নামাজে কুনুত করতেন।”

    সহীহ (দারুসসালাম) জামে আত-তিরমিযী ৪০১

    ৩) বিতর নামাজের ৩য় রাকাতে কুনুত –

    উবাই বিন কা’ব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ (সঃ) তিন রাকাত বিতর পড়তেন। প্রথমটিতে তিনি: “আপনার প্রভুর নামের মহিমা ঘোষণা করুন, পরম উচ্চ” দ্বিতীয়টিতে: “বলুন, হে অবিশ্বাসীরা!” এবং তিনি রুকু করার আগে কুনুত বলতেন, এবং শেষ করার পর বলতেন: সুবহানাল-মালিকিল-কুদ্দুস (সর্বশক্তিমান মহিমান্বিত মহিমান্বিত) তিনবার, শেষবারের মতো বলতেন।”

    সহীহ (দারুসসালাম) সুনান আন-নাসা’ ১৬৯৯

    ৪) রুকুর আগে বা পরে কুনুত –

    আনাস ইবনে মালিক বলেছেন: তাকে সুবহ নামাজে কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং সে বলেছিল: “আমরা রুকুর আগে এবং পরে কুনুত পাঠ করতাম।” হাসান (দারুসসালাম) সুনানে ইবনে মাজাহ ১১৮৩

    তাছাড়া দোয়া কুনুত শিখতে প্লে স্টোর থেকে আয়াতুল কুরসি-দোয়া কুনুত-দোয়া মাসুরা অ্যাপও ডাউনলোড করতে পারেন।

    দোয়া কুনুত এর গুরুত্ব ও ফজিলত

    দোয়া কুনুতে, আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে আশীর্বাদ, নির্দেশনা এবং শক্তি চাই।

    অতীতে যখনই মুসলমানদের কোনো সমস্যা বা দুর্যোগ বা বিপর্যয় আসত তখনই নবী কারীম (সঃ) দোয়া কুনুত পাঠ করতেন। তিনি বিতর, ফজরের সময় এবং কখনও কখনও সারা বছর অন্যান্য নামাজের সময় এটি পাঠ করতেন।

    আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে,

    মুহাম্মাদ (সা.) কাছ থেকে হাসান ইবনে আলী রাঃ এই দোয়াটি শিখেছিলেন।

    আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন,

    ‘আমি একরাতে নবী (সঃ) -এর কাছে ছিলাম। তিনি শয্যাত্যাগ করলেন এবং দুই রাকাত নামায পড়লেন। এরপর উঠে বিতর পড়লেন। প্রথম রাকাতে ফাতিহার পর সূরা আ’লা পাঠ করলেন। এরপর রুকু ও সিজদা করলেন। দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহা ও কাফিরূন পাঠ করলেন এবং রুকু-সিজদা করলেন। তৃতীয় রাকাতে ফাতিহা ও ইখলাস পাঠ করলেন। এরপর রুকুর আগে কুনূত পড়লেন।’

    عن ابن عباس رضي الله عنهما قال : بت عند النبي صلى الله عليه وسلم، فقام من الليل فصلى ركعتين، ثم قام فأوتر فقرأء بفاتحة الكتاب وسبح اسم ربك الأعلى ثم ركع وسجد ثم قام فقرأ يفاتحة الكتاب وقل يا أيها الكافرون ثم ركع وسجد وقام فقرأ بفاتحة الكتاب و قل هو الله أحد ثم قنت ودعا قبل الركوع.

    আবু নুআইম-নসবুর রায়াহ ২/১২৪ ; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/২০১; হিলয়া

    আশা করি আপনি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে সহজেই দোয়া কুনুত মুখস্ত করতে পারবেন। দোয়া কুনুত সম্পর্কে আলোচনা আজ এই পর্যন্তই। ধন্যবাদ।


    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    কপিরাইট © 2021 BDBasics || সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত