অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ২৫টি উপায়

    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    আমরা যত সময় পার করছি আমাদের জীবনে অনলাইন এর প্রভাব ততো বাড়ছে। এর সাথে সাথে  সৃষ্টি হচ্ছে আয়ের নতুন নতুন পথ। আর মানুষ এখন অনলাইনে অর্থ উপার্জন এর জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করছে। তাই অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ২৫টি উপায় সম্পর্কে জেনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুন আপনিও।

    অনলাইনে আয় 

    অনলাইন থেকে কিভাবে আয় করা যায় ? অনলাইন থেকে খুব জলদি আয় করা যায় না, এর জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়। আয়ের পথের সাথে সম্পর্ক রেখে নিজেকে অবশ্যই তৈরি করতে হবে। আপনি যত তাড়াতাড়ি নিজেকে তৈরি করতে পারবেন ঠিক তত তাড়াতাড়ি আপনি উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। ধৈর্য ধারন করাটা অনলাইন থেকে আয় করতে চাওয়ার অন্যতম প্রধান ধাপ। আপনার ধৈর্য ধারন করার ক্ষমতা থাকতে হবে, একমাত্র তখনই আপনি অনলাইন থেকে আয় করতে সক্ষম হবেন। 

    ফ্রিল্যান্সিং

    কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করা যায়? অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং ইনকাম। ফ্রিলান্সিং একটি মুক্ত পেশা। আপনি যদি পরের অধীনে কাজ না করে স্বাধীন ভাবে আয় উপার্জন করতে চান তাহলে, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার হতে পারে আপনার জন্য সঠিক ক্য্যারিয়ার।

    বিভিন্ন দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্সারদের ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দেয় বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট। সেসব ওয়েবসাইট গুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলে দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য আবেদন করতে হয় ফ্রিল্যান্সারদের। কাজদাতা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে যোগাযোগ করে কাজ দিয়ে থাকেন।

    এসব সাইটের মধ্যে আপওয়ার্ক ডটকম, ফাইভার ডটকম, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ও ওয়ার্কএনহায়ার ডটকম অন্যতম। ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায় এসব সাইট থেকে। কাজ শেষ করার পর কাজদাতার অনুমোদন পেলে তবেই অর্থ ছাড় দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কাজের মানের ওপর ভিত্তি করে কাজদাতা রেটিংও দিতে পারেন। গ্রাহকের পছন্দ না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সারকে কাজ করে দিতে হয় । এ সব কাজের বিভিন্ন বিনিময় অর্থ আনা যায় অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে।

    ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার

    আপনি যদি কোন একটি বিষয়ে বা একাধিক বিষয়ে এক্সপার্ট হোন তাহলে আপনার অনলাইন ইনকাম বা ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় হবেই। এজন্য শুধু দরকার সঠিক গাইডলাইন আর ধৈর্য ধরে সঠিক পথে আয় করার চেষ্টা করা। অনলাইনে ইনকাম করার শর্টকার্ট কোন উপায় নেই। ধৈর্য ধরে একটানা কাজ করতে পারলেই ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। 

    অনলাইনে আয় এর সবচেয়ে সহজ উপায়

    অনলাইনে আয় করার ২৫টি উপায় এবং বিভিন্ন অনলাইন ইনকাম সাইট সম্পর্কে জেনে সব থেকে সহজে বেশি ইনকাম করতে শুরু করে দিন। আপনার পছন্দের এবং দক্ষতার উপর ভিত্তি করে যে কোন একটি উপায় দিয়ে শুরু করুন অনলাইন ইনকাম। বিস্তারিত পড়ে ঠিক করুন কোন কাজ আপনার জন্য উপযোগী হবে এবং কোন কাজ করে অনলাইন থেকে মাসে টাকা আয়ের পথ বের করা সম্ভব।

    নীচে অনলাইনে আয় করার সেরা ২৫টি উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় গুলো জানতে নিচের উপায় গুলো পড়ুন। 

    ১। ব্লগিং

    অনেকে শখ করে অনেক বিষয়ে লিখালিখি করেন। কিন্তু শখের বিষয়টি যদি পেশাগত কাজে রূপ দিতে পারেন, তবে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। দুই উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে নিজের ব্লগ সাইট তৈরি করে।  বিনা মূল্যে ওয়ার্ডপ্রেস বা টাম্বলার প্ল্যাটফর্মে ব্লগ শুরু করতে পারেন।  আবার চাইলে ডোমেইন হোস্টিং নিজে কিনে ব্লগ চালু করতে পারেন।

    তবে ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য সময় এবং পুজি দুইটি জিনিসই বেশি লাগে। ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে হয়। নিজের ব্লগ শুরু করাটাই ব্লগিং করে টাকা আয় করার ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ, এতে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে। বিজ্ঞাপন, পণ্যের পর্যালোচনা, ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল প্রভৃতি নানা উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করতে পারেন। 

    আপনি কোন বিষয় এর উপর ব্লগিং করতে ইচ্ছুক তা নির্ধারন করতে হবে। ব্লগিং করার বিষয় ঠিক করা হয়ে গেলে পরর্বতী ধাপ গুলো অবলম্বন করতে হবে।

    ব্লগ তৈরি করার পর, আপনাকে অবশ্যই Google Adsense এ অ্যাপ্লাই করতে হবে। গোগাল আপনার ব্লগ সাইটে তাদের এড দেখাবে এবং এর মাধ্যমে আপনার অর্থ আসবে।

    ব্লগ সাইট থেকে শুধু যে গুগল এ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আয় করা যায় তা কিন্তু নয়। একটি প্রতিষ্ঠিত ব্লগ থেকে আপনি শত শত উপায়ে আয় করা যায়। তখন মাসে আপনি ৩০ থেকে ৫০ হাজার  টাকা ব্লগিং করে আয় করতে পারবেন।
    তবে ব্লগ লিখে আয় করতে গেলে রাতারাতি আয় হবে না। এ জন্য প্রচুর সময় ও ধৈর্য থাকতে হবে। ব্লগ থেকে অনেকের আয় করতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যায়। ব্লগের কনটেন্ট নিয়মিত আপডেট করা এবং তা সক্রিয় রাখতে বিভিন্ন কাজ করে যেতে হয়।  

    এছাড়াও দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন সাইট যেমন – B. Michelle Pippin, Couchbase, Copyhackers, Earth Island Journal, Freedom with Writing, FreelanceMom ইত্যাদি থেকে খুব সহজেই ভালো ইনকাম করা শুরু করতে পারবেন।

    ২। পিটিসি সাইট থেকে আয় করুন

    কিছু ওয়েবসাইট আছে, যাতে রাখা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে অর্থ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ধরনের সাইটকে (Paid To Click) পেইড টু ক্লিক বা পিটিসি(PTC) সাইট বলে। এসব প্রকল্প শুরুর আগে নিবন্ধন করতে হয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন পিটিসি সাইটগুলো বেশির ভাগ ভুয়া হয়। তাই কাজের আগে সেটি প্রকৃত সাইট কি না নিশ্চিত হতে হবে। অনলাইন এ খুব সহজ এবং ঝামেলা ছাড়া ১০০ ডলার বা তার কম উপারজনের জন্য  পিটিসি সাইটগুলো হতে পারে সর্বোত্তম উপায়। পিটিসি সাইটে আপনাকে বিজ্ঞাপনের লিঙ্কে ক্লিক করে ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য বিজ্ঞাপন দেখতে হবে। পিটিসি সাইট আপনার দেখা প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করবে।

    অনেক বিশ্বস্ত পিটিসি সাইট রয়েছে যেখানে বিনামূল্যে নিবন্ধন করা যায় এবং বিজ্ঞাপন দেখে অর্থ উপার্জন করা যায়। 

    এই পিটিসি সাইটগুলো থেকে আপনি কোন টাকা ইনভেস্ট করা ছাড়াই ইনকাম করা সম্ভব। আবার চাইলে কিছু টাকা ব্যয় করে রেফারেল কিনে ইনকাম বাড়ানো যায়। এটি টাকা আয়ের সহজ উপায়।

    ৩। জিপিটি (GPT) সাইট থেকে আয় করুন

    অনলাইন থেকে আরো বেশি আয় করতে যোগ দিতে পারেন জিপিটি GPT (get-paid-to) সাইট গুলোতে। জিপিটি সাইটে ছোট-ছোট সার্ভে করে, ভিডিও দেখে, গেম খেলে কিংবা এই ধরনের আরও অনেক কাজ করে অর্থ উপার্জন করা যায়। আর পাইজা, চেক বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে উঠানো যায় নির্ধারিত অর্থ। জিপিটি সাইট গুলো যেমন –

    ৪। ডাটা এন্ট্রি

    অনলাইনে সহজ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেটা এন্ট্রি। ডাটা এন্ট্রি কি? একটি কম্পিউটারের মাধ্যমে কিছু সফটওয়্যার এর সাহায্যে ডাটা যোগ বা আপডেট করাকে ডাটা এন্ট্রি বলা হয়। ডাটা এন্ট্রি করে টাকা আয় এর পরিমান 150 হতে 300 ডলার এবং আয় শুরু করতে সময় লাগে ৩ হতে ৪ মাস। তবে অটোমেশনের কারণে এ ধরনের কাজ এখন তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। যাদের ইন্টারনেট, কম্পিউটার ও দ্রুতগতির টাইপিং দক্ষতা আছে, তারা এ ধরনের কাজ করতে পারবেন। বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং সাইটে এ ধরনের কাজ রয়েছে। ডাটা এন্ট্রি কাজের লিষ্ট 

    • Word Processor Jobs
    • Data Cleaning Jobs
    • Online Form Filling Work
    • Copy & Paste Work
    • Image to Text Writing Jobs
    • Audio to Text Writing Jobs
    • Medical Transcriptionist Writing Jobs
    • Medical Coding Jobs
    • Database Update Work
    • Catalog Data Entry Jobs

    বিভিন্ন সাইটগুলো যেমন – Megatypers, Rev, Scribie ইত্যাদি থেকে বেশ ভালো ইনকাম করা যায়। 

    ৫। ক্যাপচা সলভ করে আয়

    আপনার হাতে যদি বেশি সময় থাকে তবে আপনি ক্যাপচা সলভার(captcha solver) হিসাবে অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন। ক্যাপচা সলভার অনলাইন অর্থ উপার্জনে অন্যতম সহজ উপায় গুলোর একটি।

    একজন ক্যাপচা solver-কে ক্যাপচার ইমেজ পড়ে বুঝতে হয় এবং সঠিক অক্ষর বা চিহ্ন হুবহু লিখতে হয়। এই ক্ষেত্রতে ভাল আয়ের জন্য আপনাকে খুব দ্রুত টাইপ করতে জানতে হবে। প্রতি ১০০০ ক্যাপচা সমাধান করে $ ২ পর্যন্ত ইনকাম করা সম্ভব।

    আপনি যদি ক্যাপচা সমাধান করতে আগ্রহী হন তবে Kolotibablo, ProTypers, MegaTypers, CaptchaTypers2Captcha, Captcha2Cash, Qlinkgroup, FastTypers, VirtualBee, PixProfit, এই ক্যাপচা সাইট গুলোতে সাইনআপ করে কাজ শুরু করতে পারেন।

    ৬। জরিপ বা সার্ভে থেকে ইনকাম করুন

    সার্ভে মানে মতামত নেয়া। বাংলাতে যাকে বলা হয় জরিপ। কোন প্রতিষ্ঠানের বা ব্র্যান্ডের পণ্যের উপর ৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নিয়ে জরিপ বা সার্ভে করে অর্থ উপার্জন করা হয়ে থাকে। অনলাইন সার্ভে করে উপরের যে কোন উপায় থেকে আপনি  আরও বেশি আয় করতে পারবেন।

    সার্ভে করার জন্য উক্ত পন্য বা সেবা সম্পর্কে আপনাকে মতামত দিতে হবে। সার্ভে বা জরিপের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রশ্ন থেকে পছন্দ অনুযায়ী উত্তর নির্বাচন করতে হয়, অতিরিক্ত কিছুই লিখার প্রয়োজন পড়ে না।

    আপনার প্রোফাইল, জরিপের দৈর্ঘ্য এবং আপনি যে দেশে বসবাস করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনি প্রতিটি সার্ভের জন্য $ ১ থেকে $ ২০ ইনকাম করতে পারবেন। 

    জনপ্রিয় কিছু সার্ভে সাইট

    ৭। অ্যাডসেন্স এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে আয়

    উপরের উপায় গুলো থেকে এটি একটু কঠিন এবং গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করতেও একটু বেশি সময় লাগে।

    পুরো পৃথিবীতে রয়েছে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট। এসব সাইট থেকে মাসে হাজার থেকে লক্ষ ডলার আয় করছেন সাইটগুলোর স্বত্বাধিকারী/ওনাররা। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করতে – প্রথমত, আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে (অবশ্য চাইলেই যে কেউ এখন নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে ফেলতে পারে) এবং গুগল অ্যাডসেন্স এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে অর্থ উপার্জন করতে কিছু ট্রিকস অবলম্বন করে ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক বা ভিজিটর আনতে হবে।

    এটাই অনলাইনে প্যাসিভ ইনকামের সবথেকে দীর্ঘস্থায়ী উপায়। আপনার যদি ভাল কন্টেন্ট সমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট  বা ব্লগ সাইট থাকে তাহলে আপনার অনলাইন ইনকাম চলতেই থাকবে। কিছুদিন আগেও গুগল অ্যাডসেন্স অনুমোদন ছিল না বাংলা ওয়েবসাইট বা ব্লগে। কিন্তু গত বছর থেকে গুগল তাদের অ্যাডসেন্সে বাংলা ভাষা তালিকা ভুক্ত করার যে কেউ এখন তার বাংলা ওয়েবসাইট বা ব্লগ দিয়েই টাকা ইনকাম বা আয় করতে পারে। এছাড়া অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক যেমন Media.net, PropellerAds, Adversal, Infolinks মাধ্যমে আপনার সাইটে অ্যাড দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

    ৮। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম

    যদি আপনি অনলাইনে টাকা উপার্জনের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস হয়ে থাকেন এবং পরিশ্রমী আর ধর্য্যশীল মানুষ হন তাহলে আপনার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় এবং আনলিমিটেড ইনকাম করা সম্ভব।

    অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় মানুষ এখন অনেক বেশি অনলাইন শপিং করছে। আর এই অনলাইন শপিংয়ের ঊর্ধ্বমুখী বিকাশের কারণেই আগের তুলনায় এখন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে উপার্জন করার সুযোগ বেড়েছে।

    ইবে, ফ্লিপকার্ট,ক্লিক ব্যাঙ্ক, আমাজন, সিজে, আলিবাবা ইত্যাদি শত শত অনলাইন মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে আপনি অনলাইনে তাদের পন্যের প্রচার এবং সঠিক পণ্য কেনার জন্য গ্রাহকদের সহায়তা করতে পারেন। এবং উক্ত পণ্যের বিক্রয়ের উপর পন্য এবং মার্কেট প্লেস ভেদে ৪% থেকে ২০% পর্যন্ত কমিশন উপার্জন করা সম্ভব।

    ওয়ার্ল্ডে এখন এমনও এফিলিয়েট মার্কেটার আছেন যাদের মাসিক আয় হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ ডলার।

    জনপ্রিয় এফিলিয়েট প্লাটর্ফম 

    ৯। ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আয় করুন

    এডসেন্স এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পরে অনলাইন ইনকামের আরেকটি অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হল ফ্রিল্যান্সিং। অস্থায়ী ভাবে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিভিন্ন ছোট/বড় সংস্থাগুলির সাথে কাজ করতে পারেন একজন ফ্রিল্যান্সার এবং তাদেরকে সেবা প্রদান করতে পারেন। 

    কাজের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে মাসে $৫০০ থেকে $২০০০+ পর্যন্ত আয় করা যায়।

    ডেটা এন্ট্রি, কন্টেন্ট লেখা, এসইও, ওয়েব ডিজাইনার, গ্রাফিক ডিজাইন, এপস ডেভেলপমেন্ট এবং আরো অনেক ধরনের কাজ করতে পারেন।

    ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করার জন্য আপনি ইল্যান্সার, ফাইবার ডট কম, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, আপ ওয়ার্ক, ওয়ার্ক এন্ড হায়ার, পিপল পার আওয়ার এই ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোর যেকোন এক বা একাধিক সাইটগুলোতে সাইনআপ করে কাজ শুরু করতে পারেন। তবে কোন একটা কাজে দক্ষ হয়ে কাজ শুরু করলে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনার সফলতা কেউ আটকাতে পারবে না।

    ১০। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে ইনকাম করুন

    একজন ভার্চুয়াল সহকারী একজন ব্যক্তিগত সহকারীর মতোই, পার্থক্য শুধু যিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও অনলাইনে সহকারী হিসাবে কাজ করেন।

    ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে আপনাকে যে কাজগুলো করতে হবে তার ভিতর অন্যতম হল ওয়েবসাইট মনিটরিং করা, পরামর্শদান, কন্টেন্ট লেখা, প্রুফরিডিং, পাবলিশিং, মার্কেটিং, কোডিং, ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব রিসার্চ, স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং সহ আরও অনেক ধরনের কাজ।

    ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করার জন্য অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট আছে যেমন

    এগুলোতে সাইন আপ করে আপনি আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার শুরু করে দিতে পারেন।

    ১১। Transcribing


    অনলাইনে আয় আপনি খুব দ্রত লিখতে পারেন, এই দক্ষতাই হতে পারে আপনার আয়ের উৎস। Transcribing কী ধরনের কাজ? এই কাজগুলো মূলত অডিও ফাইল কে কোনো ভাষায় লিখিত রূপ দেয়া। যেমন – একটি ইংরেজি অডিও ফাইল আপনাকে দেওয়া হল, সেটা আপনাকে এখন শুনে শুনে লিখতে হবে। এই লেখার মাধ্যমে আপনি আয় বা ইনকাম করতে পারবেন। কাজ জানা থাকলে ১ হতে ২ মাস এর মতো সময় লাগে এবং প্রতিমাসে ৩০০ হতে ৭০০ ডলার পর্যন্ত উপার্জন সম্ভব।

    ১২। ভাষা ট্রান্সলেটর


    অনলাইন এবং অফলাইন দুই দিক থেকে আয় করতে পারেন একজন ভাষা ট্রান্সলেটর। ভাষা ট্রান্সলেট করে আয় করার জন্য আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। দুই হতে তিনটি ভাষা যদি আপনার জানা থাকে তবে তা কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন।
    আপনার আগ্রহ থাকলে দুই হতে তিনটি ভাষা শিখে নিতে পারেন এবং ভাষা ট্রান্সলেটর হিসেবে ১ মাস এর মধ্যে আয় করা শুরু করে দিতে পারেন।

    বিভিন্ন সাইট যেমন – Scribie থেকে একজন ভাষা ট্রান্সলেটার প্রতি মাসে 500 হতে 700 ডলার আয় করার সমার্থ রাখেন। তাছাড়া দিন দিন ভাষা ট্রান্সলেটার এর চাহিদা বেড়েই চলছে।

    ১৩। অনলাইন কোর্স

    কোভিড-১৯ মাহামারির পর থেকে আমাদের দেশের লেখাপড়া অনেকাংশেই অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে। তা না হলে হয়ত আমরা অনলাইন কোর্স বিষয়টি এতটা বুঝতে পারতাম না। আমাদের দেশের প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া পর্যন্ত বর্তমানে অনলাইনে চলছে। 

    আপনার যে বিষয়ে অভিজ্ঞ হোক সেটা একাডেমিক কিংবা অন্য যেকোনো স্কিল। আপনি চাইলে সেই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কোর্স চালু করে সেটা PDF বা video আকারে আপনার website এ শেয়ার করে বিক্রি করতে পারেন। 

    তাছাড়াও আপনার ভালোমানের কোন লেখা ব্লগে শেয়ার করে সেটি লক করে রাখতে পারেন। অর্থাৎ আপনার কোর্সের কিছু অংশ লোকজনকে পড়তে দিবেন এবং অবশিষ্ট অংশ লক করে রাখবেন। এতেকের লোকজন আপনার কোর্স পছন্দ করলে লক করা অংশটুকো টাকার বিনিময়ে ক্রয় করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার যত ভালোমানের কোর্স থাকবে আপনি তত বেশি অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন।

    ১৪। অনলাইনে ছবি বিক্রি করে ইনকাম 

    আপনি যদি ফটোগ্রাফার হোন বা আপনার যদি ছবি তোলার শখ থাকে, তাহলে আপনার মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি অনলাইনে বিক্রি করে ইনকাম করতে পারেন ঘরে বসেই । আপনার আশে-পাশের প্রকৃতি, সুন্দর জায়গা, স্থান, মানুষ, জিনিস, খাবার-সহ যে কোন কিছুর ভাল ছবি তুলে সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। 

    অনেকেই আছেন যারা শুধু ছবি তুলে সেটা বিক্রি করে মাসে ৩০০ / ৪০০ ডলার বা তার বেশী  ইনকাম করছেন ঘরে বসেই ।

    Sell Photos Online সাইট-

    ১৫। কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি

    বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লেখা অনলাইনে টাকা ইনকাম করার আরেকটি জনপ্রিয় উপায়। বিভিন্ন ব্লগ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পন্য নিয়ে মূলত এসব কন্টেন্ট লিখা হয়ে থাকে। কন্টেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন ধরনের লেখার জন্য বিভিন্ন পরিমানে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। তবে সাধারনত ৫০০ শব্দের কন্টেন্ট এর জন্য ৫ ডলার বা তারও বেশি অর্থ পেয়ে থাকেন কন্টেন্ট রাইটাররা।আপনি কন্টেন্ট লেখার কাজ পেতে

    তবে অনলাইনে ইনকামের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় যেটা ভুল চিন্তা করে থাকি তা হল কোন কাজ না জেনেই অনলাইনে টাকা আয় করা যায় এবং সেই চেষ্টায়ও নেমে পড়ি। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় কাজ না পারায় টাকা উপার্জন করা যায় না এবং আমরা হতাশায় ভুগি। তাই যে কোন একটি বিষয় ভাল ভাবে বুঝে, জেনে, ভালভাবে শিখার পর চেষ্টা করুন। তাহলে অনলাইন জগতে আপনার সফলতা একসময় আসবেই। 

    ১৬। ওয়েব ডিজাইন করে আয় 

    এখনকার অনলাইনের কাজের ক্ষেত্রে ওয়েব ডিজাইনের চাহিদা অপরিসীম। ২০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে এক-একটি প্রোজেক্ট-এ। সব ব্যবসায়ী প্রযুক্তিপ্রেমী নন। নিজেদের ওয়েবসাইট সাঁজাতে তাদের ওয়েব ডিজাইনারের দরকার পড়ে। যাঁরা ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান নিজেদের ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকেই ছোট ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরিতে এখন কোডিং আর ওয়েব ডিজাইন দুটিই অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। 

    ১৭। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করে আয়

    ছোট-বড় যেকোন ব্যবসার জন্য প্রতিনিয়ত দরকার পড়ছে নিজস্ব website-এর। আপনি যদি ভাল ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজ ভালো পারেন তবে যেসব গ্রাহক তাদের নতুন ওয়েবসাইট তৈরি বা পুরাতন ওয়েবসাইট নতুন করে সাজাতে, তাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে তাদের ওয়েবসাইট এর কাজ করে অনলাইন ইনকাম করতে পারেন।

    এ ছাড়া ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা ও হালনাগাদের জন্যও ওয়েব ডেভেলাপারকে দরকার পড়ে। ফলে ডিজাইনারকে বসে থাকতে হয় না। ক্লায়েন্ট ও কাজের ওপর ভিত্তি করে ওয়েব ডিজাইনারের আয় বাড়তে থাকে।

    ওয়েব ডেভেলপিং করে অনলাইনে ইনকাম করার জন্য আপনাকে কোডিং শিখতে হবে। অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়, এতো এতো কোডিং ল্যাংগুয়েজের মাঝে শুরু করব কোনটা দিয়ে! এ ব্যাপারে অভিজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এইচটিএমএল দিয়ে কোডিং এর হাতেখড়ি করুন, এরপর সিএসএস, ও  পিএইচপি সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন। তারপর পড়াশোনা করুন ডাটাবেস MySQL নিয়ে। এরপর আস্তে আস্তে জাভাস্ক্রিপ্টসহ অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার চেষ্টা করুন।

    অনলাইনে বাংলা ভাষাতেই ওয়েব পিং ল্যাংগুয়েজ শেখার প্রচুর ওয়েবসাইট ও এ্যাপ রয়েছে। তবে ইংরেজী সম্পর্কে বেসিক জ্ঞান থাকলে শেখার জায়গার পরিধি অনেকাংশেই বেড়ে যায়।

    এইচটিএমএল, পিএইচপি এবং MySQL সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকলেই আপনি Freelancer, Upwork, Guru বা এই টাইপের ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে কাজ পেতে শুরু করবেন। প্রথম প্রথম কাজ পাওয়া একটু কঠিন মনে হলেও সুযোগ আসবেই৷ একবার কাজ পেয়ে গেলে ধৈর্য এবং নিজের সবটুকু দক্ষতা দিয়ে ক্লায়েন্টকে খুশি রাখার চেষ্টা করুন। একসময় দেখবেন, কাজ পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না।

    ওয়েব ডেভেলপিং করে মাসে ৫০০ থেকে ১০ হাজার ডলার বা তারও বেশি অনলাইনে ইনকাম করা সম্ভব। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনার দক্ষতা এবং আগ্রহের উপর। যে যত বেশি ওয়েব ল্যাংগুয়েজ জানে, যার দক্ষতা যত বেশি, যার ক্লায়েন্ট যত বেশি খুশি, তার অনলাইনে ইনকামও মূলত তত বেশি।

    ১৮। মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে আয় করুন

    যদি আপনি অনলাইনে সহজ কোনো কাজ খুঁজেন এবং মাসে ১০০ থেকে ২০০ ডলার ইনকাম করতে চান তবে মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে কাজ করতে পারেন।

    মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে আপনি বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন কাজ করতে পারেন যেমন একটি অবজেক্ট সনাক্তকরণ,  ওয়েবসাইট ভিজিট করা, বিভিন্ন সাইটে রেটিং এবং মন্তব্য করা, কন্টাক ডিটেইলস খোঁজা, ভিডিও দেখা, ছোট ধরনের ওয়েব রিসার্চ করা, ছোট কন্টেন্ট লেখা ইত্যাদি।

    অনেক ওয়েবসাইট আছে যেমন 

    যেখানে আপনি মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে কাজ করতে পারেন এবং অতিরিক্ত আয় উপার্জন করতে পারেন।

    ১৯। Fiverr এর মাধ্যমে আয়

    ডিজিটাল কন্টেন্ট বিক্রি করে ইনকাম করার অন্যতম প্লাটফর্ম FiverrFiverr এর ওয়েবসাইটে যান, দেখুন আপনি ঠিক কোন ধরনের কাজ করতে পারেন। যে কোন একটি ভালো গিগস বা ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করুন এবং ফিভার এ আপলোড দিয়ে মানুষকে জানাতে পারেন আপনার কন্টেন্ট সম্পর্কে।

    ফিভার এ কন্টেন বিক্রি হওয়ার সর্বনিম্ন রেট ৫ ডলারে। তাই যদি আপনি মাত্র ১টি ডিজিটাল কন্টেন্ট বা সেবা ডেভেলপ করেন এবং এটি যদি প্রতিদিন ১বারও বিক্রি হয় তাহলে মাসে আপনি সর্বনিম্ন ১৫০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

    ২০। ইউটিউবিং করে আয়

    বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ইউটিউবার আছেন। তাদের কারো কারো মাসিক ইনকাম ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আপনিও কিন্তু চাইলেই ইউটিউব ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে ইনকাম করা শুরু করে দিতে পারেন।

    এই ভিডিও বানাতে আপনার শুধুমাত্র মোবাইল থাকলেই হবে কোনো প্রফেশনাল ক্যামেরা না থাকলেও চলবে। প্রথমে অনেক বড় বড় ইউটিউবার-ই মোবাইল দিয়ে ভিডিও বানিয়ে তাদের ইউটিউব যাত্রা শুরু করে। তারপরে সফল হওয়ার পরে এখন তারা দামি দামি গেজেট ব্যবহার করে।

    আপনার কন্টেন্ট যদি গুণ সম্পন্ন হয়, প্রয়োজনীয় দরকারি বিষয় নিয়ে যদি আপনি ভিডিও বানাতে পারেন, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই আপনি ভিউয়ার বা দর্শক পেয়ে যাবেন।

    প্রফেশনালভাবে ইউটিউবে কাজ করতে হলে আপনাকে ভিডিওর অডিও ও ভিডিও এডিটিং খুবই ভালো ভাবে করতে হবে।

    তারপরে সর্বনিম্ন ১০০০ এক হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়ে গেলে এবং ন্যূনতম ৪০ হাজার ঘন্টা ভিউ টাইম হয়ে গেলে আপনি মানিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটা ভিডিওতে এর পরে মানিটাইজেশন একটিভেট করে নিলেই আপনার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।

    আপনাকে কেবল YouTube– এ নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে এবং YouTube পার্টনার হতে হবে। ভাল ভিডিও হলে মানুষ দেখবেই আর যত বেশি ভিউ ততো বেশি অ্যাড থেকে রেভিনিউ।

    ২১। ওয়েবসাইট ফ্লিপিং করে ইনকাম

    ওয়েবসাইট ফ্লিপিং ডোমেন ট্রেডিং এর মতই অনলাইনে ডলার ইনকাম করার জন্য আরও একটি ভাল ব্যবসা। এখানে আপনি ডোমেইন বিক্রি না  করে, বিক্রি করবেন ওয়েবসাইট।

    ওয়েবসাইট ফ্লিপিং করার জন্য আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, তারপর এটিকে বড় করুন ৩ থেকে ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে। তখন এই ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম শুরু করুন।

    ২-৩ মাস জন্য ইনকাম করার পরে, আপনি Flippa, FE International, Empire Flippers, We Sell Your Site, Website Broker, BizBuySell এবং অন্যান্য ওয়েবসাইট ফ্লিপিং নিলামে সেই সাইটটি বিক্রির জন্য উঠাতে পারেন। আপনি খুব সহজেই ১০ থেকে ১৫ গুন বেশি দামে আপনার বানানো এই ওয়েবসাইটটি বিক্রি করতে পারবেন।

     ২২। ড্রপশিপিং (Dropshipping) এর মাধ্যমে আয়

    ড্রপশিপিং (Dropshipping) অনলাইন ব্যবসার অন্তর্গত এই কাজ করে খুব সহজেই অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব। চলুন প্রথমেই জেনে নেই ড্রপশিপিং (Dropshipping) আসলে কি। এটা উদাহরন দিয়ে বুঝালে আপনি খুব সহজেই বুঝে যাবেন।

    মনে করেন, আপনার এলাকায় পরিচিত একজন কোনো একটা পন্য তৈরি বা উতপাদন করে সেটা বাজারে ৬০০ টাকায় বিক্রি করে। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখলেন যে এই পন্যটিই শহরে বড় বড় মার্কেটে অথবা কোনো ই-কমার্স সাইটে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    সচরাচর আমাদের দেশে এরকম সবসময় হয়েই চলেছে। কোনো একটা সবজি কৃষকদের থেকে ৬ টাকা কেজি মূল্যে কিনে বড় বড় বাজারে সেগুলো ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে ওই পন্যটি আপনি নিজেই বড় একটি ই-কমার্স (E-Commerce) সাইটে প্রোফাইল খুলে বিক্রি করতে পারেন। আপনি আপনার এলাকার যে উৎপাদনকারী আছে তার কাছে থেকে পন্য টা ৬০০ টাকায় কিনে সেটি আপনার প্রোফাইলে ১৩০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

    এতে একটি পন্যেই ৭০০ টাকা লাভ করতে পারছেন।  অথবা আপনি যদি ১২০০ টাকায় বিক্রি করেন তাতেও আপনার ৬০০ টাকা লাভ থেকে যাচ্ছে। এটিই মূলত ড্রপশিপিং (Dropshipping)। আপনার এলাকায় যদি এরকম কোনো সুযোগ থেকে থাকে তবে এই সুযোগটি কাজে  লাগিয়ে অনলাইন এ ইনকাম করতে পারবেন।

    ২৩। ই-কমার্স সাইট

    ই-কর্মাস সাইট মানে হলো একটি অনলাইন দোকান।আপনার বাসার পাশের মুদি দোকানে যেমন বিভিন্ন আইটেম সাজানো গোছানো থাকে লোকজন দোকনে আসে এবং মালামাল কিনে । ঠিক তেমনি অনলাইনে এরকম দোকান কে বলে ই-কর্মাস সাইট ।

    অনলাইনে টাকা ইনকাম এর জন্য ই-কমার্স খুবই ভালো একটি আইডিয়া। ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বলতে বোঝায় অনলাইন ব্যবসা। অর্থাৎ এই ব্যবসার যাবতীয় সকল কাজ সম্পন্ন করা হয় অনলাইনে। যেকোনো কিছু অনলাইনে বেচাকেনাই হলো ই-কমার্স।

    কেনাকাটার জন্য মানুষ দিন দিন অনলাইনের উপর অধিক নির্ভর হয়ে পড়ছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি অনলাইন পণ্য ডেলিভারি করা হয়। এই কেনাকাটার পরিমাণ সময়ের সাথে আরো বাড়বে। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রেতাদের কাছে প্রমাণ করতে পারলে যে কেউ ই-কমার্সের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করতে পারবে। আর এই আয়ের পরিমাণও অনেক হয়ে থাকে।

    বাংলাদেশের কিছু জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট হলো – Daraz, kaymu, ajkerdeal, rokomari, priyoshop। চাইলেই যেকোন পণ্য ক্রয় করা যায় শপগুলো থেকে। অনলাইনে বা ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতিতে পেমেন্ট করা হয়ে থাকে। ঘরে বসেই আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু পেয়ে যাওয়া সম্ভব এই ই-কমার্স সাইটগুলো থেকে। আপনিও অনলাইনে আয় করা শুরু করতে পারেন এরকম একটি ই-কমার্স সাইট তৈরি করার মাধ্যমে।

    এজন্য আপনার কোনো বড় শো-রুম বা গাদা গাদা স্টাফেরও প্রয়োজন হবে না। এমনকি গাদা গাদা স্টাফেরও কোনো প্রয়োজন নেই। ই-কমার্সের মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম এর জন্য প্রয়োজন শুধু একটি ওয়েবসাইট। ফেসবুকের মাধ্যমেও অনেকে ই-কমার্স চালিয়ে যাচ্ছেন। চাইলে আপনি সেটাও করতে পারেন। এজন্য আপনাকে ব্যবসায়িক কিছু জ্ঞান এবং প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। 

    সাইট তৈরির আগে ই-কমার্স সম্পর্কে যতটা সম্ভব বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। ই-কমার্সের মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম শুরু হতে বেশ কয়েকমাস লাগবে। তাই হতাশ না হয়ে আপনাকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে পুরোদমে।

    সাইটটি একবার দাঁড়িয়ে গেলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না আপনাকে। আপনি ই-কমার্সের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা ইনকাম করে আপনার পরিবার চালানো সহজ হয়ে যাবে।

    ২৪। ফেসবুক থেকে অনলাইনে আয় করার উপায়

    ফেসবুক থেকে আয় এর সাথে আরো দুটি টার্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেগুলো হলো, ফেসবুকের মাধ্যমে আয় এবং সরাসরি ফেসবুক থেকে আয়।

    ফেসবুক তার ব্যবহারকারী বা ইউজারদের টাকা উপার্জনের সুযোগ করে দেয়ার জন্যই তৈরী করেছে এমন নির্দিষ্ট কোনো ফিচার ব্যবহার করে ইনকাম করা হয় তখন তাকে সরাসরি ফেসবুক থেকে ইনকাম বলা হয়। ফেসবুকের Instant Article, In-Stream Ads, এবং Brand Collabs Manager ফিচারগুলো এই জাতীয় আয়ের অনেক বড় ক্ষেত্র তৈরী করেছে।

    ফেসবুকের এই তিনটি ফিচার ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ লাখ টাকা কামাই করছে। খেয়াল করলে দেখতে পারবেন,  ফেসবুক ছাড়া অন্য কোথাও অফিশিয়ালভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আয় করার এতোগুলো পদ্ধতি নেই।

    ইউটিউবের এ্যাডসেন্সের মতো অনেকটাই বিজ্ঞাপনভিত্তিক In-Stream Ads সিস্টেমটি। ফেসবুকে ভিডিও দেখার সময় খেয়াল করলে দেখবেন, কিছু ভিডিওর শুরুতে বা মাঝখানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয় – এই বিজ্ঞাপনটিই In-Stream Ads। 

    ফেসবুকে Instant Article বিভিন্ন ব্লগভিত্তিক ওয়েবসাইটের জন্য গুগলের এ্যাডসেন্স এর মতো। ফেসবুকে শেয়ার করা কিছু নিউজের আর্টিকেলের লিংকে ক্লিক করলে নিউজটির বিভিন্ন প্যারা বা অনুচ্ছেদের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এই আর্টিকেলগুলো মূলত ফেসবুকের এই ফিচারের আওতায়ই অর্থ উপার্জন করে চলেছে।

    এবং Brand Collabs Manager ফিচারটি হলো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানীকে প্রোমোটিংকেন্দ্রিক। আয়ের ধরণে এতো বৈচিত্র্য সাধারণ মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে অন্যতম সাহায্য করে থাকে! 

    এছাড়াও ফেসবুককে ব্যবহার করে নানানভাবে টাকা উপার্জন করা যায়। যেমন: পণ্য প্রচার করে ক্রেতা খুঁজে, ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ক্লায়েন্ট খুঁজে, ফেসবুক পেজ বিক্রি করে কিংবা শেয়ার করে।

    ২৫। রিভিউ লিখে অনলাইনে টাকা আয় করার পদ্ধতি

    রিভিউ লিখেও অনলাইনে টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এক্ষেত্রে আপনি কিসের উপর রিভিউ লিখতে আগ্রহী, সেই বিষয়টি আগে খুঁজে বের করুন বা নিশ্চিত হোন। বর্তমানে বই, মিউজিক, এবং পণ্যের উপর রিভিউ লিখে অনলাইনে আয় করা যাচ্ছে।

    প্রথমেই বলতে চাই, মিউজিকের উপর রিভিউ লিখা সম্পর্কে। মিউজিকের উপর রিভিউ লিখে অনলাইনে টাকা আয় করার জন্য মিউজিক সম্পর্কে আপনাকে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে। কোনো মিউজিকের  ভুল-ত্রুটি, ভালো-মন্দ যদি আপনি ধরে দিতে না পারেন, তবে এই কাজ মোটেও আপনার জন্য নয়।

    মিউজিকের উপর রিভিউ লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় current.Us, musicxray, Radioearn এবং earnably । প্রতিটি রিভিউয়ের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ১ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায় এই সাইটগুলো থেকে।

    উপার্জনের দিক থেকে মিউজিক রিভিউয়ের তুলনায় বইয়ের রিভিউ লিখে অনলাইনে টাকা আয় বেশি করা যায়। একেকটা বইয়ের রিভিউয়ের জন্য ৫ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায় ক্ষেত্রবিশেষে। শুধু তাই নয়, অনেক কোম্পানী ফ্রিতে বইও উপহার দিয়ে থাকেন রিভিউদাতাদের।

    বুক রিভিউ করে অনলাইনে ইনকাম করার জন্য জনপ্রিয় বিখ্যাত কিছু ওয়েবসাইট হলো kirkusreviews, onlinebookclub, theusreview এবং readersfavorit সহ ইত্যাদি।

    পণ্যের রিভিউ করেও অনলাইনে উপার্জন করা যায়। এটা স্পনসর পোস্ট নামেও পরিচিত। কিন্তু স্পনসর পোস্টের জন্য প্রচুর ফলোয়ারসহ নিজস্ব ফেসবুক পেজ অথবা ওয়েবসাইটের প্রয়োজন।

    জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ অথবা ওয়েবসাইট যদি থাকে আপনার, তবে পণ্যের রিভিউ লিখে আপনি মিউজিক কিংবা বুক রিভিউয়ের তুলনায় নিঃসন্দেহে অনেক বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

    উপরের অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ২৫টি উপায় থেকে খুঁজে বের করুন আপনি কোনটিতে আগ্রহী। এরপর শেখা শুরু করুন দক্ষ হয়ে গেলে লেগে পড়ুুন উপার্জন-এ। অনেক সময়ই একটি প্রশ্ন থাকে আপনাদের কত দিনের মধ্যে আপনাদের আয় শুরু হবে। এই প্রশ্নের উত্তরে আমি একটি কথাই বলব, যত তাড়াতাড়ি আপনি আপনার কাজকে ভালোবাসতে পারবেন তত তাড়াতাড়ি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।


    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    কপিরাইট © 2021 BDBasics || সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত