জিকির: আল্লাহর গুনবাচক নাম সমূহএর আমল এবং ফজিলত

    জিকির
    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    জিকির করবেন কীভাবে? জিহ্বায়, ক্বলবের স্মরণে নাকি অর্থ বুঝে? জিকিরের পরিপূর্ণতাই বা আসে কীভাবে? না বুঝে জিকির করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে কি? সব সময় জিকির করা প্রসঙ্গে বিশ্বনবি মুহাম্মদ (সা.)-এর বক্তব্যই বা কী ছিল?

    ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘আল্লাহর জিকিরের ফজিলত’ নামে একটি অধ্যায় হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারিতে সংযোজন করেছেন। এ জিকির দ্বারা কী উদ্দেশ্য, তা বর্ণনা করে ইবনে হাজার আসকালানি বলেছেন, ‘এ জিকির হলো ওই সব শব্দ বা বাক্য, যা বললে সাওয়াব পাওয়া যায়।

    এসব জিকিরের মধ্যে ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, হাসবুনাল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহসহ দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনায় যে কোনো দোয়া করাই জিকিরের শামিল।

    এ ছাড়াও নিয়মিত ফরজ নামাজ ও কাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জ্ঞানার্জন এবং নফল নামাজ আদায় করাকেও জিকির হিসেবে গন্য করা হয়।

    জিকির শুধুমাত্র মানুষের জিহ্বার উচ্চারণের মাধ্যমেও হতে পারে। আবার জিহ্বার উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে অন্তরের স্মরণ বা উপলব্দি সংযুক্ত হলে তা উত্তম ও পরিপূর্ণতার জিকিরে পরিণত হবে। অন্তরের স্মরণের সঙ্গে সঙ্গে যদি জিকিরের অর্থ উপলব্দি করে মুমিন তবে তা হবে আরো উত্তম এবং ফজিলতপূর্ণ।

    সুতরাং জিকির জিহ্বার দ্বারা উচ্চারণ হোক আর অন্তরের স্মরণের সঙ্গে হোক কিংবা অর্থ উপলব্দির মাধ্যমেই হোক, সব ধরনের জিকিরেই সাওয়াব পাবে মুমিন। সাওয়াব পাওয়ার জন্য অন্তরের সম্পর্ক ও অর্থের সম্পর্ক জরুরি নয়। তবে পরিপূর্ণ ও উত্তম জিকিরের জন্য এসবই প্রযোজ্য।

    জিকির-এর প্রকারভেদ

    জগৎ বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি জিকিরকে ৩ ভাগে ভাগ করেছেন।

    • মুখের জিকির

    কোনো চিন্তা-গবেষণা ছাড়াই জিহ্বার উচ্চারণে জিকির করা। ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, হাসবুনাল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ, কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি মুখে উচ্চারণ করা।

    • কলবের জিকির

    আল্লাহর জাত, সিফাত (গুণাবলী), বিধানাবলী, আদেশ, নিষেধ ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করার মাধ্যমে অন্তর দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করা।

    • অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জিকির

    সব সময় মানুষের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আল্লাহর আনুগত্যে রত থাকা বা পরিচালিত হওয়া। আর এ জন্যই নামাজকে কুরআনে জিকির বলা হয়েছে। নামাজে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আল্লাহর নির্দেশ পালনে জিকিরে রত থাকে।

    অনেকে আবার জিকিরকে ৭ ভাগে ভাগ করেছেন। তা হলো-

    • চোখের জিকির : আল্লাহর ভয়ে চোখ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া।
    • কানের জিকির : মনোযোগ দিয়ে আল্লাহর কথা শোনা।
    • মুখের জিকির : আল্লাহর প্রশংসা করা।
    • হাতের জিকির : দান-সাদকা ও কল্যাণকর কাজ করা।
    • দেহের জিকির : আল্লাহর বিধান পালন করা।
    • ক্বলবের জিকির : আল্লাহর ভয়ে ভিত হওয়া বা তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহর রহমতের আশা করা।
    • আত্মার জিকির : আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদির ও ফয়সালার উপর পরিপূর্ণ রাজি ও সন্তুষ্ট থাকা।

    সব যুগের ইসলামি স্কলারগণ জিকিরের বিষয়ে একমত হয়েছেন যে-

    আল্লাহর জিকিরের অর্থ হলো ওই সব জিকির, যা যপ বা উচ্চারণ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। কুরআন তেলাওয়াত, নামাজ আদায়, তাসবিহ-তাহলিল, পিতামাতার জন্য দোয়াসহ কুরআন-সুন্নাহর মাসনুন দোয়া ও আল্লাহর ফরজ বিধান পালন।

    এ ছাড়াও জিকিরের আলাদা আলাদা ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এ সব ফজিলত বর্ণনার কারণ উঠে এসেছে-

    হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আমার সর্বশেষ যে কথাটি হয়েছিল, যে কথাটি বলে আমি তাঁর থেকে শেষ বিদায় নিয়েছিলাম তা হলো-

    আমি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে প্রিয় আমল (কাজ) কোনটি?

    তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ যে, তুমি যখন মৃত্যুবরণ করবে তখনো তোমার জিহ্বা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত (আদ্র) থাকবে।’ অর্থাৎ সব সময় মুমিনের মুখে আল্লাহর জিকির চলতে থাকবে।

    আল্লাহর গুণবাচক নামের আমল

    মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি করে। এ সব ইবাদত-বন্দেগির মাঝেও মানুষ নানা ভুল করে থাকে। এ সব ভুল-ভ্রান্তিমুক্ত থাকতে এবং বান্দার সব কাজ আল্লাহর জন্য হওয়া বাঞ্ছণীয়। যা আল্লাহর গুণবাচক নামের আমলের মাধ্যমে সম্ভব।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ গুণবাচক নামগুলোর জিকির করবে; সে জান্নাতে যাবে।’

    আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْمُقْتَدِرُ) ‘আল-মুক্বতাদিরু একটি। এ গুণবাচক নামের আমল বান্দার সব কাজ আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।

    আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْمُقْتَدِرُ) ‘আল-মুক্বতাদিরু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

    উচ্চারণ : ‘আল-মুক্বতাদিরু’

    অর্থ : ‘নিজের ক্ষমতা প্রকাশকারী; পরম শক্তিমান; অতি ক্ষমতাধর। আল্লাহ তাআলা তাঁর ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সত্যের আসনে সর্বশক্তিমান রাজাধিরাজের সান্নিধ্যে।’ (সুরা আল-ক্বমার : আয়াত ৫৫)

    আল্লাহর ‍গুণবাচক নাম (اَلْقَادِرُ)-এর আমল

    ফজিলত

    যে ব্যক্তি সব সময় আল্লাহ তাআলার এ পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمُقْتَدِرُ) ‘আল-মুক্বতাদিরু’ পাঠ করবে, সে সব কাজেই সাবধানী হয়ে যাবে। অর্থাৎ দুনিয়ার প্রতিটি কাজে সাবধানতা অবলম্বন করবে।

    আর কোনো ব্যক্তি যদি শোয়া থেকে ওঠার সময় আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمُقْتَدِرُ) ‘আল-মুক্বতাদিরু’ ২০ বার পাঠ করে; তবে ওই ব্যক্তির সব কাজই আল্লাহ তাআলার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর গুণবাচক নাম (اَلْمُقْتَدِرُ) ‘আল-মুক্বতাদিরু’ এ ছোট্ট আমলের মাধ্যমে দুনিয়ার সব কাজকে আল্লাহর জন্য নিবন্ধিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    ‘আল-মাঝেদু’ জিকির-এর আমল ও ফজিলত

    আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْمَاجِدُ) ‘আল-মাঝেদু’ একটি। আল্লাহ তাআলার নূর লাভে এবং অধিন সম্মান ও মর্যদা লাভের গুরুত্বপূর্ণ আমল এটি।

    উচ্চারণ : ‘আল-মাঝেদু’

    অর্থ : ‘অত্যাধিক মর্যাদাসম্পন্ন; বড় দাতা’

    ফজিলত

    • যে ব্যক্তি একাকী আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمَاجِدُ) ‘আল-মাঝেদু’-এর জিকির করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে; ওই ব্যক্তির অন্তরে আল্লাহ তাআলার নূর পয়দা হয়।
    • যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمَاجِدُ) ‘আল-মাঝেদু’-এর জিকির নিয়মিত বেশি বেশি করে; ওই ব্যক্তি সৃষ্টি জীবের কাছে অধিক সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালে তাঁর ভালবাসা লাভে এবং দুনিয়ায় মানুষের নিকট অত্যাধিক সম্মান ও মর্যাদার সৌভাগ্য অর্জনে তাঁর গুনবাচক নাম (اَلْمَاجِدُ) ‘আল-মাঝেদু’-এর জিকির বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। আমিন

    মানুষের ভালোবাসা ও নেতৃত্ব লাভের আমল

    আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْقَيُّوْمُ) ‘আল-ক্বাইয়্যুম’ একটি। মানুষের ভালোবাসা লাভ এবং কোনো কাজ মনমতো সম্পদনের জন্য কাযকরী আমলও এটি।

    আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْقَيُّوْمُ) ‘আল-ক্বাইয়্যুম’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো

    উচ্চারণ : ‘আল-ক্বাইয়্যুম’

    অর্থ : ‘যিনি নিজে চিরস্থায়ী এবং সৃষ্টিজীবকে প্রতিষ্ঠাকারী’

    ফজিলত

    •  যে ব্যক্তি শেষ রাতে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْقَيُّوْمُ) ‘আল-ক্বাইয়্যুম’ অধিক হারে পাঠ করে, ওই ব্যক্তিকে জনগণ ভালোবাসতে শুরু করে।
    • যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْقَيُّوْمُ) ‘আল-ক্বাইয়্যুম’-এর অধিক জিকির করে, সে ব্যক্তির সব কাজই তার মনমতো হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব মানুষকে তাঁর গুনবাচক নামের ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম (اَلْقَيُّوْمُ) আল কাইয়্যূমু এর বিশেষ ফজিলত মানুষের ভালোবাসা লাভ এবং মন মতো কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন

    ধন-সম্পদ বৃদ্ধির আমল

    আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْوَاجِدُ) ‘আল-ওয়াঝেদু’ একটি। নিরবে ও নির্জনে এ আমলটি করলে আল্লাহ তাআলা ধণ-সম্পদ বৃদ্ধি করে দেন।

    আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْوَاجِدُ) ‘আল-ওয়াঝেদু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

    উচ্চারণ : ‘আল-ওয়াঝেদু’

    অর্থ : ‘এমন মুখাপেক্ষীহীন সত্তা, যিনি কারো কাছে কোনো কিছুর জন্য মুখাপেক্ষী নন’

    ফজিলত

    • যে ব্যক্তি খাবারের সময় প্রত্যেক লোকমায় আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْوَاجِدُ) ‘আল-ওয়াঝেদু’ পাঠ করবে; তা ওই ব্যক্তির শরীরে নূর হয়ে যাবে।
    • যে ব্যক্তি নির্জনে একনিষ্ঠ মনে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْوَاجِدُ) ‘আল-ওয়াঝেদু’ পাঠ করবে; সে ব্যক্তি ধনী বা সম্পদশালী হয়ে যাবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব অসচ্ছল মানুষকে তাঁর গুনবাচক নাম (اَلْوَاجِدُ) ‘আল-ওয়াঝেদু’-এর ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

    আল-হাইয়্যু’-এর জিকির-এর আমল ও ফজিলত

    আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْحَيُّ) ‘আল-হাইয়্যু’ একটি। অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য লাভ, নেক হায়াত বৃদ্ধি এবং আত্মিক প্রশান্তি লাভে এ নামের জিকির অনেক কার্যকরী।

    উচ্চারণ : ‘আল-হাইয়্যু’

    অর্থ : ‘চিরঞ্জীব; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যিনি জীবিত’

    ফজিলত

    • কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْحَيُّ) ‘আল-হাইয়্যু’ অসংখ্যবার পড়লে অথবা অসুস্থ ব্যক্তি পড়তে না পারলে তাঁর চোখেকে সামনে রেখে অন্য কেউ অনেকবার পড়লে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকে সুস্থতা দান করেন।
    • যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْحَيُّ) ‘আল-হাইয়্যু’ প্রতিদিন ১৭ বার পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করে দেন।
    • আবার কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْحَيُّ) ‘আল-হাইয়্যু’ প্রতিদিন ১৭ বার পাঠ করে তবে আল্লাহ তাআলা তাঁকে আত্মিক প্রশান্তি ও শক্তি বৃদ্ধি করে দেন।

    ‘আল-মুমিতু’ জিকির-এর আমল ও ফজিলত

    উচ্চারণ : ‘আল-মুমিতু’

    অর্থ : ‘মৃত্যু দানকারী’

    ফজিলত

    • যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে অক্ষম হন এবং শরিয়তের বিধিবিধান পালনে অপারগ হন; তবে সে যেন রাতে ঘুমানোর সময় বুকের ওপর হাত রেখে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمُمِيْتُ) ‘আল-মুমিতু’ পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ে। আল্লাহর ইচ্ছায় ওই ব্যক্তি আত্মা তার অনুগত হয়ে যাবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বিমুখ লোককে শরিয়তের বিধি-বিধান যথাযথ পালনে একনিষ্ঠ হতে আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের এ ছোট্ট আমলটি যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    ‘আল-মুহয়িয়ু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত

    আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْمُحْيِيُ) ‘আল-মুহয়িয়ু’ একটি।

    যদি কারো কোনো ব্যাথা-বেদনা, কষ্ট বা অঙ্গহানির আশংকা থাকে;

    তবে সে যেন এ পবিত্র নামের আমল করে।

    ফজিলত

    •  যদি কোনো ব্যক্তি ব্যাথা-বেদনা বা কষ্ট অনুভব করে অথবা কোনো অঙ্গহানির আশংকা করে; তবে সে যেন আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمُحْيِيُ) ‘আল-মুহয়িয়ু’ ৭ (সাত) বার পাঠ করে। এতে আল্লাহ তাআলা তাকে ব্যাথা-বেদনা, কষ্ট বা অঙ্গহানি থেকে মুক্তি দান করেবেন।
    • যদি কোনো ব্যক্তির ৭ দিন পর্যন্ত ব্যাথা থাকে তবে তা ৭ দিন পর্যন্ত এ আমল করবে। প্রতিদিন আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمُحْيِيُ) ‘আল-মুহয়িয়ু’ পাঠ করে ব্যাথার স্থানে দম করবে।
    • আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْمُحْيِيُ) ‘আল-মুহয়িয়ু’ নিয়মিত পাঠ করলে, পাঠকারীর অন্তর জিন্দা থাকবে এবং শরীরে শক্তি অর্জিত হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহরকে ব্যাথা-বেদনা, কষ্ট বা অঙ্গহানি থেকে মুক্ত থাকতে এবং আত্মা জিন্দা রাখতে; শরীরে শক্তি লাভে আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের এ ছোট্ট আমলটি যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    ঈমান দৃঢ় ও মজবুত হওয়ার জিকির 

    প্রত্যহ ১০০ বার আল্লাহু নামে ‍যিকির করলে ঈমান দৃঢ় ও মযবুত হয়।

    দুনিয়ার সমস্ত ভাল কাজ সম্পাদন সহজ করার জিকির

    প্রত্যেক নামাযের পর ১০০ বার আররাহমানু পড়লে দুনিয়ার সমস্ত ভাল কাজ সম্পাদন করা সহজ হয়

    সম্পদশালী হওয়ার জিকির

    প্রত্যহ আররাহীমু নামটি ৫০০ বার করে পড়লে সম্পদশালী হওয়া এবং আল্লাহর দয়া ও সন্তষ্টি তার প্রতি বর্ষিত হয়।

    মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার জিকির

    মহিমান্বিত আলমালিকু নামটি ৩০০০ বার পড়লে আল্লাহ তার মনোবাসনা পূর্ণ করবেন

    রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার জিকির

    প্রত্যহ শেষ রাতে উয়া আলকুদ্দূসু নামটি ১০০০বার পড়লে রোগ ব্যধি থেকে মুক্ত থাকা যায়

    জ্ঞান বৃদ্ধি লাভের জিকির

    নিয়মিতভাবে ফজরের নামাযের পর আসসালামু এ নাম ১০০০বার পড়লে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়

    বালা মসিবত থেকে নিরাপদ থাকার জিকির

    যালিমের যুলুম ও বালা মসিবত থেকে নিরাপদ থাকার জন্যে প্রত্যহ আলমুমিনু নামটি ১৩৬বার পড়বে ।

    দুচিন্তা ও ভয় দূর করার জিকির 

    দুশ্চিন্তাগ্রস্ত  ব্যক্তি প্রত্যহ ২৯ বার বা বেশী পরিমানে আলমুহাইমিনু পাঠ করলে দুচিন্তা ও ভয় দূর হবে

    বিচারে সুফল লাভের জিকির

    বিচারকের কাছে যাওয়ার আগে প্রভাতে ৪১ বার আল আযীযু পড়লে ইনশাআল্লাহ বিচারক তারপ্রতি সদয় হবেন ।

    যাবতীয় যুলুম থেকে মুক্তি লাভের জিকির

    প্রত্যহ ফজর ও মাগরিবের পর ২১৬ বার আলজাব্বারু পড়লে যাবতীয় যুলুম থেকে মুক্তিপাবে ।

    মান সম্মান বৃদ্ধি ও উন্নতি লাভের জিকির

    আলমুতাকাব্বিরু নাম সবদা পড়লে মান সম্মান বৃদ্ধি পায় ও উন্নতি লাভ হয়

    পুত্র সন্তান লাভের জিকির 

    প্রত্যহ ১০০০বার আল খালিকু পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ পুত্র সন্তান নসীব হবে ।

    কবরের কঠিন আযাব খেকে মুক্তি লাভের জিকির 

    প্রত্যহ ৭বার আল-বারিউ নাম জপলে কবরের কঠিন আযাব খেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

    আল্লাহ সর্বশক্তিমান। আমরা যখন বিপদ-আপদ এর সম্মুখীন হই একমাত্র আল্লাহই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। আল্লাহর নাম জিকির করলে কঠিন বিপদও খুব সহজেই মিটে যায়। আল্লাহকে ডাকার প্রতিদান অপরিসীম। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর গুনবাচক নাম জিকিরের আমল এবং ফজিলত সম্পর্কে জেনে আল্লাহকে মন-প্রান দিয়ে স্মরণ করা ও তাঁর অনুগত থাকা।


    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    কপিরাইট © 2021 BDBasics || সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত