ইঁদুর তাড়ানোর উপায় – ১০টি ঘরোয়া সহজ উপায়ে ইঁদুর তাড়ান

১০টি ঘরোয়া সহজ উপায়ে ইঁদুর তাড়ান

রান্নাঘরে ক্যাচক্যাচ শব্দ, আধা খাওয়া খাবার, কালচে বর্ণের অপরিচিত ময়লা, দেয়ালে বা ফ্লোরে আঁচড়ের দাগ…। কয়েকদিন ধরে এসব আপনার নজরে আসছে? বুঝে নিন আপনার বাড়িতে ইঁদুর ঢুকেছে। প্রকৃতিতে খাদ্য শৃঙ্খলে ইঁদুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এটি মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে৷ এই আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন ১০টি ইঁদুর তাড়ানোর উপায়।

বাড়িতে ইঁদুর কেন আসে?

বাড়িতে ইঁদুর আসে মূলত খাবার, আশ্রয়, এবং বংশবৃদ্ধির জন্য। প্রতিকূল পরিবেশে, বিশেষ করে শীত ও বর্ষার সময়ে বাইরের পরিবেশে খাপ খাওয়াতে তাদের কষ্ট হয়।

আবার শিকারী প্রাণীদের খপ্পর থেকে বংশ রক্ষা করা মুশকিল। তাই এসব কারণেই এই প্রাণী বসতবাড়িতে জায়গা করে নেয়।

দেখতে ছোট হলে কি হবে, এদের খাবার লাগে অনেক। এরা খুব সামান্য খায় ঠিকই। কিন্তু অবিরাম খাদ্যের জোগান না থাকলে এরা ৩ থেকে ৪ দিনের বেশি বাঁচতে পারেনা।

আর সেজন্য বাড়ির চাইতে মুদি দোকান বা খাদ্যদ্রব্যের গুদামে ইঁদুরের উৎপাত বেশি দেখা যায়।

ইঁদুর আমাদের কি ক্ষতি করে? 

ইঁদুর শস্যদানা থেকে শুরু করে বইপত্র, কাপড়চোপড়, খাবারের প্যাকেট, চামড়ার জিনিসপত্র, ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি কাটে ও খেয়ে ফেলে। এমনকি এটি মাথার চুলকেও রেহাই দেয় না।

প্লেগ, টাইফয়েড, চর্মরোগ, কৃমিসহ মোট ৬০টি রোগের জীবাণু বহন করে এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি। 

ইঁদুর কামড়ালে কি হয়? 

ইঁদুরের আচড়, কামড়, লালা, মলমূত্র, লোমের কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ইঁদুর কামড়ালে আক্রান্ত স্থান থেকে-

  • রক্ত পড়ে
  • প্রচন্ড ব্যথা হয়
  • লাল হয়ে যায়
  • ফুলে যায়
  • চুলকানি
  • জ্বর, এবং মাথাব্যথা হয়।

ইনফেকশন হয়ে গেলে অবস্থা আরো জটিল হয়ে বিপদ বাড়িয়ে তোলে। 

তাই যতদ্রুত সম্ভব আক্রান্ত স্থানের পরিচর্যা করতে হবে। প্রথমে জায়গাটি গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তারপরে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য পরিষ্কার সুতি কাপড় বা গজ দিয়ে স্থানটি অন্তত ৫ মিনিট চেপে রাখতে হবে। 

রক্ত পড়া বন্ধ হলে জায়গাটি অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ভালোমতো পরিষ্কার করে নিতে হবে। কোন লোম বা ময়লা যাতে থেকে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এরপরে টিটি টিকা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে।

যদি বন্য ইঁদুরের কামড় হয় তাহলে অবশ্যই র্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে হবে। অন্যথায় নেয়ার দরকার নেই, কারণ ঘরে থাকা ইঁদুর সাধারণত জলাতঙ্কের জীবাণু বহন করেনা।

ইঁদুর মারার বিষ কতটা কার্যকরী?

বাজারের ইঁদুর মারার বিষ সবসময় প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। যেসব বাড়িতে ছোট শিশু বা পোষাপ্রাণী বা উভয়ই আছে সেখানে বিষ প্রয়োগ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ৷ আবার আজকাল বিষে ভেজাল থাকার কারণে ইঁদুর সহজে মরে না।

ইঁদুর মারার বিষ কিভাবে তৈরি করবেন?

  • বাড়িতেই কার্যকরী ইঁদুর মারার বিষ তৈরি করা সম্ভব। মাত্র দুই মিনিটেই রান্নাঘরে থাকা খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ইঁদুরের জন্য সুস্বাদু কিন্তু প্রাণঘাতী ওষুধ বানাতে পারবেন। তবে এই ওষুধ মানুষের পেটে গেলে কোন ক্ষতি হবে না। 
  • বিষ বানাতে ময়দা বা আটা, চিনি, এবং বেকিং পাউডার তিনটিই আধা কাপ করে নিবেন এবং একসাথে মিশিয়ে নিবেন। আপনার কাজ শেষ। এবারে এই গুঁড়া মিশ্রণ সরাসরি ইঁদুরের আস্তানা এবং আসা-যাওয়ার জায়গায় রেখে দিন।
  • গুঁড়ার পরিবর্তে ছোট ছোট বল বানিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ঐ তিনটি উপাদানের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে আঠালো করে নিবেন। মধু দিলে ইঁদুর তাড়াতাড়ি আকৃষ্ট হবে। ভুলেও পানি মিশাবেন না, তাহলে বিষের কার্যকারিতা কমে যাবে। 
ইঁদুরের পাকস্থলীর এসিডের সাথে বেকিং পাউডার বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাস ইঁদুর সহজে নির্গত করতে পারেনা বলে পেট ফুলে মারা যায়। পরপর ৩ দিন এই বিষ প্রয়োগ করলে আপনার পুরো বাড়ি ইঁদুরমুক্ত হতে বাধ্য। 

ময়দা-চিনি-বেকিং পাউডারের মিশ্রণ বাদে আরো হরেক রকমের ইঁদুর তাড়ানোর উপায় আছে।

আরও পড়ুনঃ লেবুর ২০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ঔষধি গুণাগুণ জেনে নিন

ইঁদুর তাড়ানোর উপায় :

চলুন বিস্তারিত জেনে নেই ১০টি সহজ ইঁদুর তাড়ানোর উপায় সম্পর্কে ।

১. ইঁদুর তাড়ান মশলা দিয়ে 

জ্বি হ্যাঁ, দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত মশলা দিয়ে খুব সহজেই ইঁদুর তাড়াতে পারবেন। পেঁয়াজ, রসুন, লবঙ্গ, গোলমরিচ, তেজপাতা ইত্যাদি ইঁদুর নিধনের অব্যর্থ ওষুধ।

⇒ পেঁয়াজ

প্রথমেই আসি পেঁয়াজের কার্যকারিতার ব্যাপারে। পেঁয়াজ ছাড়া রান্না যেমন অসম্ভব, তেমনি পেঁয়াজ দিয়ে ইঁদুর মারা সম্ভব। পেঁয়াজের ঝাঁজালো গন্ধ ইঁদুর একদমই পছন্দ করে না। যেখানে ইঁদুরের আনাগোনা থাকে সেখানে পেঁয়াজ রেখে দিন। কেটে রাখলে ভালো হয়, তাহলে গন্ধটা ভালো ছড়াবে আর ইঁদুরও পালাবে।

⇒ গোলমরিচ

পেঁয়াজের মত গোলমরিচের গন্ধও ইঁদুরের জন্য বিষ। এর মারাত্মক কটু ঝাঁজ একবার ইঁদুরের শ্বাসনালীতে ঢুকলেই ফুসফুস সংকুচিত হয়। ফলে শ্বাসকষ্ট হয়ে মৃত্যু অবধারিত। গোলমরিচের গুঁড়া ছড়িয়ে রাখলে ইঁদুর আপনার ঘরের ধারেকাছেও আসবে না। লালমরিচের গুঁড়া হতে পারে গোলমরিচের চমৎকার বিকল্প।

⇒ লবঙ্গ

একইভাবে লবঙ্গও কাজে লাগাতে পারেন। ইঁদুরের আক্রমণ বেশি এমন জায়গায় কয়েকটি লবঙ্গ কাপড়ে পেঁচিয়ে রেখে দিন। ফল টের পাবেন কয়েকদিনেই। 

⇒ রসুন

ইঁদুর তাড়াতে রসুন কয়েকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। কয়েক কোয়া রসুন কুচি করে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর এই রসুন ভেজানো পানি ইঁদুরের রাস্তা বা বাসার আশেপাশে ছড়িয়ে দিন। ইদুঁর তো আসবেই না, বরং যেগুলো আছে সেগুলোও পালাবে। 

ঘরের যেসব কোণায় ইঁদুর থাকার সম্ভাবনা আছে সেসব জায়গায় আস্ত রসুনের কোয়াও রেখে দিতে পারেন। ভালো হয় যদি রসুনের পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ কোয়া শুকিয়ে যায় তাড়াতাড়ি, কিন্তু পাউডার অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে৷ এক কৌটা রসুন গুঁড়ার দাম পড়বে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মতো। 

তেজপাতা

আস্ত তেজপাতা বা তেজপাতা গুঁড়া করে ইঁদুরের গর্তের মুখে বা রাস্তায় রেখে দিন। গন্ধে তো পালাবেই, যদি তেজপাতায় জিভ লাগিয়েও ফেলে মৃত্যু একেবারে নিশ্চিত। বাজারের তেজপাতা গুঁড়া কিনতে দাম পড়বে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মতো।

২. এসেনশিয়াল অয়েল কাজে লাগান 

এতদিন হয়তো এসেনশিয়াল অয়েল রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করে এসেছেন। আজ থেকে এটি ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে দিন। কারণ মশলার মতো এই ধরণের তেলেও আছে তীব্র গন্ধ, যা ইঁদুরের সহ্যসীমার বাইরে।

পিপারমিন্ট, টি ট্রি, ইউক্যালিপটাস, লেমন, ক্লোভ, সিডার উড ইত্যাদি এসেনশিয়াল অয়েলের মধ্যে যেকোন একটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলোর মধ্যে পিপারমিন্ট তেলের কার্যকারিতা সবচাইতে বেশি। 

ছোট ছোট তুলার বল বানিয়ে পিপারমিন্ট তেলে ভিজিয়ে নিন। এবারে এই বলগুলো ইঁদুরের গর্তের কাছে, ঘরের কোণায় রেখে দিন।

ব্যস, ইঁদুরও দূর হবে আর আপনার ঘরটাও সুগন্ধে ভরে যাবে। ছোট এক শিশি তেল কিনতে খরচ পড়বে কমপক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মতো। 

চাইলে নিজে ঘরে এই তেল বানাতে পারেন।

কিভাবে বানাবেন?

একটি কাচের জারে এক মুঠো তাজা পুদিনাপাতা আধা কাপ অলিভ অয়েলে মিশিয়ে দশ দিন সূর্যের আলোতে রাখুন। দশ দিন পরে মিশ্রণটা হালকা আঁচে দশ মিনিট ফুটিয়ে নিন এবং তেলটা ছেঁকে ঠান্ডা করুন। ব্যস, হয়ে গেল হোমমেইড পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল।

তেলের পরিবর্তে তাজা পুদিনাপাতা দিয়ে কাজ চালাতে পারবেন। বাড়ির কাছে পুদিনার গাছ রাখুন, ইঁদুর ঘরে ঢুকতে পারবেনা। অথবা পুদিনার পেস্ট বানিয়ে ইঁদুর যেখানে ঘোরাঘুরি করে সেখানে লাগিয়ে রাখতে পারেন।

৩. কেমিক্যাল ব্যবহার করুন 

এমনিতে বাজারে হরেক রকমের ইঁদুর মারার বিষ পাওয়া যায়। কিন্তু সেসব বিষ ছাড়াও ঘরে থাকা নিত্য ব্যবহার্য কেমিক্যাল দিয়ে ইঁদুরের আক্রমণ ঠেকাতে পারবেন। 

⇒ ডিটারজেন্ট পাউডার

কাপড় কাচার জন্য ঘরে নিশ্চয়ই ডিটারজেন্ট পাউডার আছে। খানিকটা ডিটারজেন্ট আর তরল অ্যামোনিয়া হবে ইঁদুর মারার উপায়।

একটি পাত্রে ১০০ মিলি পানি, ২ কাপ তরল অ্যামোনিয়া, এবং ২ চা চামচ ডিটারজেন্ট পাউডার একসাথে মিশিয়ে নিন৷ এই মিশ্রণ ছড়িয়ে দিন সেখানে যেখানে ইঁদুরের দেখা মিলে। ডিটারজেন্ট না থাকলে শুধু অ্যামোনিয়াও ঢেলে দিতে পারেন।

⇒ ট্যালকম পাউডার বা বেবি পাউডার

ট্যালকম পাউডার বা বেবি পাউডারকে ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। যেটাই বেছে নিন, প্রয়োজনমতো পাউডার ছিটিয়ে দিবেন ইঁদুরের বাসার আশেপাশে। ইঁদুরটিকে আর খুঁজে পাবেন না। 

⇒ বেকিং পাউডার

ঘরের আনাচে-কানাচে জায়গায় ইঁদুর বাসা বাঁধে। তাই সেসব জায়গায় অনেকটা বেকিং পাউডার ছড়িয়ে দিন। রাতে ঘুমানোর আগে এটা করবেন, সকালে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলবেন।

⇒ ন্যাপথলিন  

ন্যাপথলিন সাধারণত পোকামাকড়ের হাত থেকে কাপড়চোপড় বাঁচানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এটা দিয়ে ইঁদুর নিধন করা যায়। কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে রাখার পাশাপাশি ইঁদুরের বাসা ও আসা-যাওয়ার রাস্তায় কয়েকটা ন্যাপথলিন ফেলে রাখুন, কাজ হয়ে যাবে। ২৫-৩০ টাকায় এক প্যাকেট ন্যাপথলিন পাবেন।

৪. চুল দিয়ে হবে ইঁদুরের বিনাশ

ইঁদুর তাড়ানোর সবচাইতে সহজ উপায়গুলোর মধ্যে চুল একটি। আপনি মাথার চুল দিয়ে অনায়াসেই ইঁদুর মেরে ফেলতে পারবেন। চুলের গন্ধ মানেই মানুষের অস্তিত্ব, আর ইঁদুর মানুষকে ভয় পায়। 

তাছাড়া মানুষের মাথার চুল ইঁদুরের পছন্দের খাবার। কিন্তু সেটা পেটে গেলে হজম হয় না। আবার চুলে পা বা শরীর পেঁচিয়ে ইঁদুর মারা যায়। তাই চিরুনি বা হেয়ারব্রাশে লেগে থাকা চুল ইঁদুরের গর্তে, ঘরের মেঝেতে, যেখানে ইঁদুর ঘুরঘুর করে সেখানে ফেলে রাখুন। 

৫. বিড়াল ইঁদুর মারতে ওস্তাদ! 

ছোট্ট তুলতুলে এই প্রাণীটি এক কথায় ইঁদুরের যম। আর আপনি যদি বিড়ালপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে তো কথাই নেই। আপনার শখ পূরণ ও ইঁদুর নিধন – এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবেন যদি ঘরে বিড়াল থাকে। 

তো দেরি না করে আজই বিড়াল পুষতে শুরু করে দিন। বিড়ালের একটা ম্যাও ডাক শুনলেই ইঁদুরের আত্মা খাঁচাছাড়া হয়ে যাবে। তাছাড়া বিড়ালের বর্জ্যের গন্ধ পেলে ইঁদুর সতর্ক হয়ে যাবে আর বাড়ির কাছেও ঘেঁষবে না।

তবে আপনার বিড়ালের লোমে অ্যালার্জি আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে নিবেন আগে।

আরও পড়ুনঃ রক্তশূন্যতা দূর করার উপায় : রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়বে যেসব খাবারে

৬.গোবর কিন্তু বেশ উপকারী 

অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারই কথা, ইঁদুর মারতে গোবর কাজে লাগানো যায় এটা হয়তো অনেকেই জানেন না। গ্রামাঞ্চলে গোবর সহজে পাওয়া যায় কিন্তু শহরে গোবর ম্যানেজ করাটা একটু কঠিন।

ইঁদুর মারার জন্য আপনাকে নিতে হবে শুকনো গোবর। ইঁদুর গোবর খেয়ে হজম করতে পারেনা, পেট খারাপ হয়, পেট ফুলে মারা যায়। শুকনো গোবরের খন্ড টুকরো টুকরো করে ইঁদুরের জায়গায় রেখে দিন।

৭. ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন

ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার মধ্য দিয়ে ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে পারবেন। সাধারণত অন্ধকার, নোংরা ঘর, ফার্নিচারের তলা ইত্যাদি বদ্ধ জায়গা ইঁদুরের পছন্দের জায়গা। কাজেই ঘরকে এমনভাবে সাজান যাতে ইঁদুর বাসা বাঁধতে না পারে।

👉 অপ্রয়োজনীয় কাগজের, মেটালের, বা প্লাস্টিকের বাক্স থাকলে ফেলে দিন অথবা পরিষ্কার করুন।

👉 কোন ফার্নিচারের তলায় ময়লা জমতে দিবেন না। 

👉 বাড়িতে স্টোর রুম থাকলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন।

👉 কাগজ বা কাপড়ের টুকরা,পোষাপ্রাণীর লোম, কাঠের গুঁড়া, তুলা ইত্যাদি নরম জিনিস জড়ো করে বাসা বাঁধতে ইঁদুর পছন্দ করে।পরিষ্কারের সময় এই নরম আবর্জনার দিকে বিশেষভাবে নজর দিবেন। 

👉 ময়লা-আবর্জনা ও খাবারের কণার গন্ধে ইঁদুর বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই প্রতিদিন ঘর ঝাড়ু দেয়ার চেষ্টা করুন যাতে ইঁদুর বাড়িতে ঢোকার সুযোগ না পায়।

👉 আর সবসময় ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়ি ব্যবহার করবেন।
 
👉 বাগান থাকলে বাগানের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করবেন। 

৮. খাবার সবসময় ঢেকে রাখুন 

মানুষের খাবার হোক বা পোষাপ্রাণীর খাবার, খাবারের গন্ধ পেলে ইঁদুর, তেলাপোকা, পিঁপড়া, মাকড়সা, বাদুড়, চিকা ছুটে আসবেই। তাই খাদ্যদ্রব্য সবসময় ঢেকে রাখুন এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন। 

👉 প্লাস্টিকের কন্টেইনার ইঁদুর খুব সহজেই কেটে ফেলে। তাই কাচ বা মেটালের কন্টেইনারে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করে রাখবেন। 

👉 ফ্রিজে খাবার রাখার সময় খেয়াল করে দেখবেন ফ্রিজের দরজাটা ঠিকমতো আটকাচ্ছে কিনা। 

👉 কিছু ফল বা সবজি যেগুলো ফ্রিজে বেশিদিন রাখলে পঁচে যাবে, আবার বাইরেও রাখা যাবেনা - এমন খাদ্যদ্রব্য কম পরিমাণে কেনার চেষ্টা করুন। 

👉 টেবিলের উপর খাবার রাখলে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি বা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে তার উপর হাতুড়ি বা ভারী কিছু দিয়ে চাপা দিয়ে রাখবেন। তাতে করে ইঁদুর সহজে ঢাকনা সরিয়ে চুরি করতে পারবেনা। 

👉 ছোট্ট একটা কণাও ইঁদুরকে আকৃষ্ট করতে পারে। তাই খাওয়া-দাওয়া শেষে উচ্ছিষ্ট সাথে সাথে পরিষ্কার করে ফেলবেন। সম্ভব হলে দূরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসুন, বা ডাস্ট বিনে কয়েকটি পলিথিনে পেঁচিয়ে ময়লা ফেলবেন। 

👉 প্লাস্টিকের কন্টেইনার ইঁদুর খুব সহজেই কেটে ফেলে। তাই কাচ বা মেটালের কন্টেইনারে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করে রাখবেন।

👉 আর পোষা প্রাণী বা পাখির খাবার বেশিক্ষণ বাইরে ফেলে রাখবেন না। 

৯. ইঁদুর মারার ফাঁদ বা বিষটোপ ব্যবহার করুন

ফাঁদ ও বিষটোপ ইঁদুর মারার উপায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। এগুলো ইঁদুরের বাসার মুখে বা আনাগোনার রাস্তায় বসিয়ে রাখতে হয়। বিষ ও ফাঁদের দাম পড়বে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার মধ্যে।

বিষটোপ দুই ধরণের আছে –

  • তীব্র
  • দীর্ঘস্থায়ী

⇒ তীব্র বিষ

জিঙ্ক ফসফাইড হল তীব্র বিষ, যা একবারে অনেকটা খেলে সাথে সাথেই ইঁদুরের মৃত্যু নিশ্চিত।

তবে সমস্যা হল, একবার একটু মুখে নিয়ে পরখ করলে ইঁদুর অসুস্থ হয়ে পড়ে কিন্তু মরে না। আর অসুস্থ ইঁদুরকে দেখে বাকি সুস্থ ইঁদুরগুলো সতর্ক হয়ে যায় বলে এই বিষের কার্যকারিতা কম।

⇒ দীর্ঘস্থায়ী বিষ

দীর্ঘস্থায়ী বিষ, অর্থাৎ সাইনোগ্যাস ও ফসটক্সিন ট্যাবলেটে ইঁদুর মরতে সময় লাগে ৫ থেকে ১৩ দিন। এই গ্যাস বা ট্যাবলেট সেবনে ইঁদুরের শরীরে রক্ত জমাটের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপাত হতে হতে ইঁদুর নিস্তেজ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। 

বিষটোপ মানুষের সংস্পর্শে আসলে ক্ষতি হতে পারে। তাই টোপের চাইতে ফাঁদ ব্যবহার করা নিরাপদ। কয়েক ধরণের ফাঁদ আছে – 

  • স্ন্যাপ ট্র্যাপ – এগুলোতে শক্ত মেটাল বার থাকে। খাবার ধরে টান দিলেই বারটা ঘুরে ইঁদুরের ঘাড়ে এসে পড়ে এবং ঘাড় ভেঙে ফেলে।
  • ইলেকট্রিক ট্র্যাপ – খাবারের লোভে ইঁদুর ফাঁদের ভিতরে গেলেই বৈদ্যুতিক শকে মারা যায়।
  • স্টিকি ট্র্যাপ – এক ধরণের বোর্ড, ইঁদুর বোর্ডটা পেরিয়ে যাওয়ার সময়ে আঠায় পা আটকে যায়। এই ফাঁদে ইঁদুর মরে না।
  • লাইভ ক্যাচ ট্র্যাপ – এই ফাঁদে খাবারের সাথে দরজার সংযোগ আছে। ইঁদুর ঝোলানো খাবার ধরে টান দিলেই ফাঁদের দরজা সশব্দে বন্ধ হয়ে যায় আর ভিতরে আটকা পড়ে।
  • হিউমেন ট্র্যাপ – ঘরে বসে বানাতে পারবেন এই ট্র্যাপ। এই ফাঁদে ইঁদুরের ক্ষতি হয় না। 
একটি বড় বালতির অর্ধেকটা পানিপূর্ণ করুন। তারপরে বড় একটি বেলুন ফুলিয়ে বালতির মুখে বসান। যাতে বেলুনটা না ভেসে বালতির মুখের সাথে এঁটে থাকে। এবারে বেলুনের চারপাশে শস্যদানা ঢেলে দিন। বালতির সাথে কাঠের তক্তা ঠেস দিয়ে রাখুন। শস্যের গন্ধে অনেকগুলো ইঁদুর যখন কাঠ বেয়ে বেলুনের উপর চেপে বসবে তখনই বেলুন ফেটে যাবে। আর ইঁদুর পানিতে পড়ে যাবে।

১০. রাস্তা বন্ধ করে দিন 

ইঁদুর যদি বাড়িতেই ঢুকতে না পারে, তাহলে আপনাকে আর বাড়তি কষ্ট করতে হবেনা। যেসব সম্ভাব্য জায়গা দিয়ে ইঁদুর বাড়িতে প্রবেশ করে সেসব জায়গা আজই বন্ধ করে দিন। ইঁদুর সাইজে ছোট হওয়ার কারণে এক ইঞ্চিরও কম ব্যাসের ছিদ্র দিয়ে অনায়াসে ঢুকতে পারে। 

ইস্পাতের পাত বা গলিত ইস্পাত ঢেলে বাড়িতে, গ্যারেজে, দোকানে ইত্যাদি জায়গায় থাকা ছিদ্র বন্ধ করতে পারেন। অনেকে স্টেইনলেস স্টিলের মাজুনি দিয়ে বাসন মাজেন। এটা দিয়েও ছিদ্র বন্ধ করার কাজ করতে পারেন।

বড় পাথর বা ইট ছিদ্রের মুখে বসিয়ে দিতে পারেন। চাইলে জানালায় লোহার জাল দিয়ে বেড়া দিতে পারেন, তাতে ইঁদুরের উৎপাত কমবে। 

 ইঁদুর মারার চক, ফেব্রিক ডায়ার শীট হতে পারে সহজ সমাধান৷ চক দিয়ে ইঁদুরের ঘোরাঘুরির রাস্তায় দাগ কেটে রাখলেই হবে।

ফেব্রিক ডায়ার শীট হচ্ছে পলিয়েস্টার দিয়ে তৈরি এক ধরণের বিশেষ শীট, যা ভেজা কাপড়ে রাখলে কাপড় থেকে পানি শুষে নেয়। এই শীটের গন্ধ ইঁদুর একদমই সহ্য করতে পারেনা। ছোট ছোট ছিদ্রে এই শীট গুঁজে দিতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে শীট পাল্টে দিবেন যাতে গন্ধটা হালকা হয়ে না যায়।

 সমপরিমাণ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার আর পানি একসাথে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ঢেলে নিন। ইঁদুরের প্রবেশের রাস্তায় স্প্রে করে দিন। মাসে একবার স্প্রে করলেই যথেষ্ট।

তবে ছিদ্র ব্লক করতে কখনোই কাঠ, ফোম, প্লাস্টিক, রাবার, ভিনাইল ব্যবহার করবেন না। কারণ ইঁদুর এসবের তোয়াক্কা করে না। 

ইঁদুর তাড়ানোর উপায় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

শেষ কথা 

ইঁদুর তাড়ানো খুব কঠিন কোন কাজ না, শুধু একটু সময় আর ধৈর্য্য দরকার। বাড়ির অযাচিত এই অতিথিকে কিভাবে দূর করবেন সেটা আশা করি এই আর্টিকেল পড়ে বুঝতে পেরেছেন। 

একটা কথা সবসময় মাথায় রাখবেন, সেটা হল ইঁদুর ঠেকাতে গিয়ে পরিবারের অন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ইঁদুর তাড়ানোর যে উপায়গুলো এখানে দিয়েছি, সেগুলো মেনে চললে কম সময়ের মধ্যে ইঁদুরের হাত থেকে রেহাই একদম নিশ্চিত।