অনলাইন ইনকাম (Online income): অনলাইনে আয় করার ৫ টি সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায়

অনলাইনে আয় করার ৫ টি সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায়

বর্তমান যুগের একটি জনপ্রিয় আয়ের উৎস হচ্ছে অনলাইন ইনকাম । যেখানে রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। অনলাইনে আয় করা যে সম্ভব তা সবাই জানেন। কিন্তু কি কি উপায়ে অনলাইনে আয় করা সম্ভব তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভুগেন ।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে অনেক উপায় আছে, তার মধ্যে ৫টি নির্ভরযোগ্য উপায় জানতে পারবেন এই লেখা থেকে। যা আপনাকে অনালাইন ইনকাম করতে সাহায্য করবে।

অনলাইনে ইনকাম করার জন্য কী কী প্রয়োজন?

অনলাইন ইনকাম করার জন্য অধিক শ্রম, মেধা ও সময়ের প্রয়োজন। এই শ্রম, মেধা ও সময়কে ঠিক মত কাজে লাগিয়ে নিজের স্কিল ডেভেলাপমেন্ট করে সহজেই ২০২৪ সালে অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন। তাছাড়া আর যা লাগবে তা হলঃ কম্পিউটার, কম্পিউটার না থাকলে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবস্থা। যা দ্বারা আপনি ঘরে বসেই অনেক টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

অনেকেই মনে করে যে অনলাইনে আয় করে ১০ দিনের ভেতর লক্ষ্ লক্ষ্ টাকা চলে আসে। হাঁ, এটা সম্ভব কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ পরিশ্রম, সময়, দক্ষতা এবং ক্রিয়েটিভ আইডিয়া। কারণ অনলাইনে আয় করুন অথবা অফলাইনে আয় করুন,  এমন কোনো পদ্ধতি এখনো আবিষ্কার হয়নি যে আপনি রাতারাতি লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করে ফেলবেন।

পরিশ্রম ছাড়া কোনও পথেই টাকা ইনকাম করা সম্ভব নয়। আপনি অনলাইন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন তখনই যদি আপনি অনেক পরিশ্রম করতে পারেন, অনেক সময় দিতে পারেন এবং ধৈর্য ধারন করতে পারেন।

অনলাইন ইনকাম করার ৫ নির্ভরযোগ্য উপায় সমূহ

১) অনলাইন ইনকামঃ ওয়েবসাইট বা ব্লগিং থেকে অনলাইনে আয় (Website/Blogging theke online income)

অনলাইনে ইনকাম করার অন্যতম কার্যকরী নির্ভরযোগ্য এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ওয়েবসাইট বা ব্লগ। আপনি একটি ওয়েবসাইট কিংবা একটি ব্লগ তৈরি করে এবং তাতে ভালমানের আর্টিকেল দিয়ে ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। অনেকেই ভাবে ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করলেই ডলার ডলার ইনকাম করা যায়। কিন্তু শুধু ব্লগ তৈরি করলেই ইনকাম করা যায় না বরং তাতে নিয়মিতি ভালমানের আর্টিকেল শেয়ার করে ভিসিটর আনতে হয়। যত বেশি ভালো আর্টিকেল তত বেশি ভিসিটর, যত বেশি ভিসিটর তত বেশি আয়।

আর আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগে যদি যথেষ্ট পরিমানে ভিসিটর থাকে তবে আপনি অনেক আয় করতে পারবেন। ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে আয় করার অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কিছু নিচে দেয়া হলঃ

  • গুগল অ্যাডসেন্স
  • স্পনসর বিজ্ঞাপন
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম ( Google Adsense theke tk income)

গুগল অ্যাডসেন্স একটি অ্যাড পাবলিশিং কোম্পানি। আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট অ্যাডসেন্স এর সাথে মনিটর করাতে পারবেন। বিজ্ঞাপন থেকে যে পরিমাণ আয় হবে গুগল সেই অর্থের এক শতাংশ আপনার সাথে শেয়ার করবে। কিন্তু ভালমানের অসাধারণ কনটেন্ট ছাড়া আপনি বেশি আয় করতে পারবেন না। আপনি ১০-১৫ টা ভালোমানের আর্টিকেল লিখে গুগল এডসেন্স পেয়ে যাবেন। আর মানুষ আপনার আর্টিকেল যত বেশি পছন্দ করবে এবং যত বেশি ভিউ হবে আপনি বিজ্ঞাপন থেকে তত বেশি আয় করতে পারবেন।

তাছাড়া অনেক অ্যাড পাবলিশিং কোম্পানি রয়েছে যারা অনেক ভালো রেট দিয়ে থাকে। আপনি এই সব অ্যাড পাবলিশিং কোম্পানির বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেও ভালো ইনকাম করতে পারেন।

স্পনসর বিজ্ঞাপন থেকে ইনকাম (Sponsor ad theke online income)

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ অন্যান্য স্পনসর কোম্পানির যেকোনো প্রোডাক্ট প্রচার করে অথবা পণ্য রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করেও আপনি  আয় করতে পারবেন।

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ যত বেশি জনপ্রিয় হবে আপনার স্পনসরশিপ রেট তত বেশি হবে। আপনার ব্লগে যদি অনেক বেশি ভিজিটর থাকে ও আপনি যদি অনেক ভালমানের লেখক হন তবে আপনি ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন একটি স্পনসর পোস্ট থেকে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ইনকাম (Affiliate marketing theke income)

তাছাড়াও ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জন এর আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। নিচে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

তাই দেরি না করে এখনই নিজের জন্য একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করে ফেলুন। তারপর আপনার পোস্ট বা কনটেন্ট বা আর্টিকেল গুলো সকলের সাথে শেয়ার করুন ।

আজকাল ওয়েবসাইট  বানাতে মাত্র এক হাজার টাকা হলেও হয়। খুব বেশি হলে ২-৩ হাজার টাকা খরচ পড়তে পারে। আপনি নিজেও তৈরি করতে পাড়েন অথবা অন্য কাউকে দিয়ে বানাতে পাড়বেন। তাছাড়া গুগল এর ব্লগার সেবাটি সম্পূর্ণ ফ্রী। এটি দিয়ে খুব সহজেই ব্লগিং সাইট তৈরি করে ব্লগিং করতে পারেন এবং ভালো ভালো কনটেন্ট বানাতে পারবেন। এখানেও আপনি গুগলন অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে ব্লগিং এর মাধ্যমে অনলাইন ইনকাম এই আর্টিকেলটি পড়ুন। 

২) অনলাইন ইনকামঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে অনলাইনে আয় (Affiliate marketing theke online income)

অনলাইনে ইনকাম করার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং(Affiliated Marketing)। বাংলাদেশে আগে তেমন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার ছিলো না। বর্তমানে বাংলাদেশেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার সংখ্যা বেড়েছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliated Marketing) কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে অনলাইনে অন্যের পণ্য বিক্রি করে কমিশনের মাধ্যমে অনলাইন আয় করাকে বুঝায়। আপনি যদি অনেক বেশি পরিশ্রমি এবং ধৈর্যশীল হন তাহলে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইন ইনকাম

অনলাইনে বর্তমানে অনেক  শপিং সাইট রয়েছে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট বা স্নাপডিল ইত্যাদি। এদের সকলের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সুবিদা আছে। DarazEvaly হচ্ছে  আমাদের দেশের জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেট ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি ব্যাবস্থা যেখানে আপনি আপনার বন্ধু বা পরিবারের কেউ বা আপনার সাইট এর ভিসিটরদের কোনো প্রোডাক্ট কেনার জন্য আমন্ত্রন জানাতে পারেন। আপনার রেফার করা পণ্যটি তারা যদি অনুমতি গ্রহন করে ক্রয় করেন, তবে আপনি কিছু অংশ আয় করতে পারবেন। তাই এটি অনলাইনে ইনকাম করার একটি জনপ্রিয় এবং ভালো উপায়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হল অ্যামাজন। আর এভাবে আপনি অ্যামাজন এর একজন অ্যাফিলিয়েট মেম্বার হয়ে যেতে পারেন। এরপর পছন্দ অনুযায়ী আপনি প্রোডাক্ট সিলেক্ট করতে পারবেন এবং সেই প্রোডাক্টের জন্য আপনাকে একটা লিঙ্ক দেয়া হবে। আপনার ফেসবুক বা ওয়েবসাইট বা ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেলে আপনি সেই লিঙ্কটি শেয়ার করতে পারেন। যদি কেউ সেই লিঙ্কটি ক্লিক করে প্রোডাক্টটি কিনেন তবে আপনি সেখান থেকে কমিশনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

কিছু জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট প্লাটর্ফম ২০২১ঃ

মোবাইল ফোন, বই, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি অন্যদের রেফার করতে পারবেন। আপনার ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ তা আপনি পাবলিসিটি করার প্লাটফরম হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন। তারপর অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কটি সেই প্লাটফরম এর মাধ্যমে শেয়ার করে এবং প্রোডাক্ট বিক্রি করিয়ে ভালো আয় করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শিখবেন?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং স্টেপ বাই স্টেপ শিখতে এই আর্টিকেল পড়তে পারেন।

৩) অনলাইন ইনকামঃ ইউটিউব থেকে অনলাইনে আয় (Youtube theke online income)

অনলাইন ইনকাম করার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হল ইউটিউব (Youtube)। আমাদের দেশের অনেকেই ইউটিউবিং করে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন। ইউটিউব থেকে যে কোনও বয়সের মানুষেরই খুব ভালো পরিমানে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। ইউটিউব হচ্ছে ইন্টারনেট জগতের জনপ্রিয় ১০ ওয়েবসাইটের মধ্যে একটি।

ইউটিউব কি? এখন এই বিষয়ে আলোচনা করার কিছু নেই। কারণ ইউটিউব চেনেন না এমন কাওকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না।

কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়? (Kivabe youtube theke tk income kora jay)

ইউটিউব থেকে অনেক লোক অনেক পরিমানে টাকা উপার্জন করছে এবং আপনিও চাইলে আয় করতে পারেন। আপনি ইউটিউব থেকে ভালো পরিমানে ইনকাম তখনই করতে পারবেন, যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি জনপ্রিয় হয় এবং আপনার আপলোড দেয়া ভিডিওতে যদি অনেক ভালো ভিউ থাকে এবং আপনার চ্যানেলটিতে যদি হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকে।

ইউটিউবে যখন আপনি কোনো ভিডিও আপলোড করবেন তখন গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আপনার ভিডিওটির সাথে অ্যাড দেখানো হবে। এই অ্যাড ইউটিউব থেকে দেখানোর জন্য আপনাকে গুগল অ্যাডসেন্স এর কাছে আবেদন করতে হবে। তবে টেনশন করবেন না কারণ গুগল খুব তাড়াতাড়ি আপনার দরখাস্তটি মঞ্জুর করে ফেলবে । তারপর অ্যাড দেখানো শুরু করবে আপনার ভিডিওটিতে। অনেক অ্যাড প্রদানকারী কোম্পানি আছে যারা গুগলকে অর্থ প্রদান করে।গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে গুগল সেই অর্থের কিছু অংশ আপনাকে দেয় এবং বাকিটা নিজের জন্য রেখে দেয়।

গুগল এডসেন্স এর এড পাওয়ার জন্য আপনার চ্যানেলটি অবশ্যই মনিটাইজ করতে হবে। ইউটিউবে গুগল এডসেন্স এপ্রোভ হওয়ার শর্তঃ

  • ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার
  • ৪ হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে।

তাই ইউটিউব অনলাইনে ইনকাম করার খুব ভালো একটি মাধ্যম। কিন্তু আপনার উপকারে এটি তখনই আসবে যখন আপনার চ্যানেলটি জনপ্রিয় হয়ে যাবে। যেখানে আপনার বানানো ভিডিও মানুষ পছন্দ করবে এবং চ্যানেলে  অনেক সাবস্ক্রাইবার থাকবে। এর জন্য আপনাকে অনেক সময় দিতে হবে, অনেক পরিশ্রম করতে হবে এবং আপনার স্কিল ডেভেলাপ করতে হবে। ভালোমানের ভিডিও তৈরি ও এডিট করে  এবং ভালো উপস্থাপনা করে  আপনি ইউটিউব থেকে সহজেই অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

আপনি যে কোনো ধরনের ভিডিও ( টিউটোরিয়াল,টেকনোলজি বা রান্না বিষয়ক ইত্যাদি) তৈরি করতে পারেন। আপনার পছন্দমত আপনি যেকোনো ধরনের ভিডিও বানান। যদি তা ভালো হয় তবে সেই ভিডিও গুলো মানুষ পছন্দ করবে ও আপনার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবে। এভাবে ধিরেধিরে আপনি ইনকাম করতে পারবেন।

৪) অনলাইন ইনকামঃ Fiverr.Com বা অন্যান্য ফ্রিলান্সিং থেকে অনলাইনে আয় (Freelancing theke online income)

অনলাইনে সবচেয়ে বেশি মানুষ যে পদ্ধতিতে আয় করে সেটি হলো ফ্রিলান্সিং। এই খাতটি বাংলদেশের বেকারত্ব কমাতে অনেক বড় ভুমিকা পালন করছে এবং এই খাতে কাজ করে  অনেক দক্ষ মানুষ দেশকে রিপ্রেসেন্ট করছে ।

ফ্রিলান্সিং কি?

বিভিন্ন ধরনের কাজ যে কাজে আপনি দক্ষ সে কাজটি একটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এর বিনিময়ে করে দেয়াকে ফ্রিলান্সিং বলে।

কয়েকটি ওয়েবসাইট দক্ষতা অনুযায়ী ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দেয় । সেখানে দক্ষতা অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট খুলে কাজের আবেদন করতে হয়।  সবার প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বিষয় দক্ষতা দরকার। এটা হতে পারে ফটো এডিটিং (Photo Editing), গ্রাফিক্স ডিজাইনিং (Graphics Design),ওয়েব ডিজাইনিং (Web Design), কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing), লোগো ডিজাইন (Logo Design), ওয়েব সাইট মেকিং (Website Making), কপি রাইটিং (Copywriting),ইত্যাদি।

আপনার কাজের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন ফ্রিলান্সিং সাইটে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। তারপরে আপনার ঐ সাইটে মেনশন করতে হবে যে যে কাজে দক্ষতা রয়েছে সেগুলো।

জনপ্রিয় ফ্রিলান্সিং সাইটেগুলো তথা অনলাইন ইনকাম সাইট গুলো হচ্ছেঃ

Fiver

Freelancer

Upwork

99designs

Toptal ইত্যাদি

Fiverr.Com বা অন্যান্য ফ্রিলান্সিং থেকে কিভাবে অনলাইন আয় করা যায়?

Fiverr এমন একটি ফ্রিলান্সিংসাইট যেখানে আপনি যেকোনো সেবা প্রদান করতে পারবেন । আপনি যে ধরনের কাজে পারদর্শী হয়ে থাকেন, তবে Fiverr.Com এ একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। সেখানে এই কাজ গুলোকে আপনি বিক্রি করতে পারবেন।

এখানে প্রতিটি কাজ এর প্রাইস মিনিমাম ৫ ডলার হয়ে থাকে। এছাড়া আপনি বিভিন্ন প্যাকেজ তৈরি করতে পারবেন আপানার কাজের নিয়ম অনুযায়ী। সেগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন দাম ঠিক করে দিতে পারবেন। কাস্টমারের সাথে কথা বলে কাজ বুঝে নেয়ার পর কাজ শেষ হলেই কাজদাতা আপনাকে টাকা দিবে। তখন Fiverr সেখান থেকে সামান্য কিছু টাকা কেটে নিয়ে প্রায় পুরো টাকাই আপনাকে দিয়ে দেবে।

তাছাড়াও আরও অনেক নির্ভরযোগ্য ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস অনলাইনে আছে। আপনি অ্যাকাউন্ট খুলে একটি প্রোফাইল বানাতে পারেন সেই ফ্রিলান্সিংসাইটগুলোতে । এরপর আপনাকে মার্কেটপ্লেস এ বিভিন্ন ধরনের হাজার হাজার জবের মধ্যে থেকে আপনি যে সব কাজে পারদর্শী বা আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজের জন্য আবেদন করতে হবে। আপনার প্রোফাইল যাচাই করে ভালো লাগলে কাজদাতা সেই কাজটি আপনাকে দিয়ে দিতে পারেন।

আপনি এসব ফ্রিলান্সিং সাইটে আপনি ঘণ্টা চুক্তি এবং ফিক্সড প্রাইস অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। সেখান থেকে কাজ করে অনেক ভালো ইনকাম করা সম্ভব।

৫) অনলাইন ইনকামঃ লিঙ্ক শর্ট করে অনলাইনে আয় (Link short kore online income)

এখানে আমরা অনলাইনে ইনকামের কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন আমরা আরেকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব সেটা হল লিঙ্ক শর্ট করা। এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল লিঙ্ক শর্ট করে ইনকাম করার জন্য আপনার আগের থেকে কোনও অভিজ্ঞতা না থাকলেও হবে।

লিঙ্ক শর্ট কি?    

অনলাইনের প্রতিটি সাইটের প্রতিটি পেইজের একটা নির্দিষ্ট লিঙ্ক রয়েছে। এই লিঙ্কগুলো সাধারণত বড় হয়ে থাকে। এই লিঙ্কগুলো যখন প্রমোট করার দরকার হয় তখন এই বড় বড় লিঙ্কগুলো দিতে পারবেন না। লিঙ্ক শর্টিং সার্ভিস গ্রহন করে সহজেই সেই বড় লিঙ্কগুলকে ছোট লিংকে পরিবর্তন করতে পারবেন। সেই ছোট লিঙ্কগুলোকে শেয়ার করার মাধ্যমে ভিজিটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়ে লিংকে ক্লিক করানো যায়। এভাবে যে আয় করা হয় তাকে লিঙ্ক শর্ট করে আয় করা বলে।           

 লিঙ্ক শর্ট করে কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায়? 

ইউজাররা বিভিন্ন যায়গায় লিঙ্ক শর্ট করে পোস্ট করে। আপনি বড় বড় ওয়েবসাইট লিঙ্ক কে লিঙ্ক শর্ট করার মাধ্যমে ছোট করতে পারবেন। অনেক ওয়েবসাইট এই লিঙ্ক শর্ট করার সেবা প্রদান করে থাকে। bit.ly এবং goo.gl  তাদের মধ্যে অন্যতম । কিন্তু এগুলো ব্যবহার করে আপনি  আয় করতে পারবেন না। ইন্টারনেটে লিঙ্ক শর্ট করার জন্য কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যা লিঙ্ক শর্ট করিয়ে টাকা প্রদান করবে।

জনপ্রিয় কিছু লিঙ্ক শর্টিং সাইটঃ

যখন বড় লিঙ্ক গুলোকে আপনি এদের মাধ্যমে শর্ট করে বিভিন্ন যায়গায় শেয়ার করবেন তখন যদি কেউ সে লিঙ্ক এ ক্লিক করে প্রবেশ করতে চায়, তাহলে একটি অ্যাড পেজ  ঐ কাঙ্ক্ষিত লিঙ্ক এ যাওয়ার পূর্বে দেখাবে। সে ঐ অ্যাড পেজ স্কিপ করে কাঙ্ক্ষিত লিঙ্ক এ যেতে পারবে। আর আর এর জন্য adf.ly বা sorte.st ইত্যাদি সাইটগুলো আপনাকে টাকা প্রদান করবে।

আপনি ফেসবুক অথবা আপনার ওয়েবসাইট এ লিঙ্ক শর্ট করে পোস্ট করতে পারেন। সে লিঙ্ক এ যতো বেশি ভিজিটর ক্লিক করে প্রবেশ করবেন আপনি ততো বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছারাও অনলাইন থেকে আয় করার আরও অনেক ছোট ছোট কাজ রয়েছে।

এখানে অনলাইনে ইনকাম করার ৫ টি নির্ভরযোগ্য উপায় দেওয়া হয়েছে।,আশা করি সকলের উপকারে আসবে। আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী এবং পরিশ্রম অনুসারে এই উপায়গুলোকে কাজে লাগিয়ে অনেক ভালো ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইন বা অফলাইন হোক, টাকা উপার্জন করা কোথাও সহজ না। তাই অনলাইনে এ কাজ করার ইচ্ছা থাকলে উপরিউক্ত কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম বেঁছে নিয়ে আজই কাজ শুরু করুন।