সূরা মূলক (Surah Al-Mulk): বাংলা অনুবাদ, উচ্চারণ, অর্থ, আরবি অডিও, ফযিলত এবং শানে নুযূল

    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    আল-মুলক অর্থসার্বভৌম কর্তৃত্ব। এই সূরাটির প্রথম আয়াতের تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ বাক্যাংশের الْمُلْكُ অংশ থেকে এই সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে।

    সূরা আল-মুলক নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান

    সূরা আল-মুলক (আরবি ভাষায়: الملك) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কুরআনের ৬৭ তম সূরা, এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৩০ এবং রূকু(অনুচ্ছেদ) সংখ্যা ২। সূরা আল-মুলক মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

    এ সূরাটি কোন সময় নাযিল হয়েছিলো তা কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায় না। তবে বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগী থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, সূরাটি মক্কী জীবনের প্রথম দিকে অবতীর্ণ সূরাসমূহের অন্যতম।

    সূরা আল মূলকের আরবি উচ্চারণসহ বাংলা অনুবাদ

    بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

    (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
    Bismillaahir Rahmaanir Raheem

    পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

    تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

    (১) তাবা-রকাল্লাযী বিইয়াদিহিল্ মুল্কু অহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীরু
    Tabaarakal lazee biyadihil mulku wa huwa ‘alaa kulli shai-in qadeer

    অর্থ: বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।

    الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

    (২) আল্লাযী খলাক্বল্ মাওতা অল্ হাইয়া-তা লিইয়াব্লুয়াকুম্ আইয়্যুকুম্ আহ্সানু ‘আমালা-; অহুওয়াল্ ‘আযীযুল্ গফূরু।
    Allazee khalaqal mawta walhayaata liyabluwakum ayyukum ahsanu ‘amalaa; wa huwal ‘azeezul ghafoor

    অর্থ: যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।

    الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِنْ فُطُورٍ

    (৩) আল্লাযী খলাক্ব সাব্‘আ সামা-ওয়া-তিন্ ত্বিবা-ক্ব-; মা-তার-ফী খর্ল্ক্বি রহ্মানি মিন্ তাফা-ওয়ুত্; র্ফাজ্বিঈ’ল্ বাছোয়ার হাল্ তার-মিন্ ফুত্বর।
    Allazee khalaqa sab’a samaawaatin tibaaqam maa taraa fee khalqir rahmaani min tafaawut farji’il basara hal taraa min futoor

    অর্থ: যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি?

    ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنْقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ 

    (৪) সুম্মার্ জ্বি‘ইল্ বাছোয়ার র্কারতাইনি ইয়ান্ক্বলিব্ ইলাইকাল্ বাছোয়ারু খ-সিয়াঁও অহুওয়া হার্সী।
    Summar ji’il basara karrataini yanqalib ilaikal basaru khaasi’anw wa huwa hasee

    অর্থ: অতঃপর তুমি দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, সেই দৃষ্টি অবনমিত ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।

    وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ

    (৫) অলাক্বদ্ যাইয়্যান্নাস্ সামা-য়াদ্ দুন্ইয়া-বিমাছোয়া-বীহা অজ্বা‘আল্নাহা-রুজুমাল্ লিশ্শাইয়াত্বীনি অআ‘তাদ্না-লাহুম্ ‘আযা-বাস্ সা‘র্ঈ।
    Wa laqad zaiyannas samaaa’ad dunyaa bimasaa beeha wa ja’alnaahaa rujoomal lish shayaateeni wa a’tadnaa lahum ‘azaabas sa’eer

    অর্থ: আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপপঞ্জু দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আজাব।

    وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

    (৬) অলিল্লাযীনা কাফারূ বিরব্বিহিম্ ‘আযা-বু জ্বাহান্নাম্; অ বি”সাল্ মার্ছী।
    Wa lillazeena kafaroo bi rabbihim ‘azaabu jahannama wa bi’sal maseer

    অর্থ: আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর কতইনা নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!

    إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ

    (৭) ইযা য় উল্ক্ব ফীহা- সামি‘ঊ লাহা-শাহীক্বঁও অহিয়া তাফূর।
    Izaaa ulqoo feehaa sami’oo lahaa shaheeqanw wa hiya tafoor

    অর্থ: যখন তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথলিয়ে উঠবে।

    تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ

    (৮) তাকা-দু তামাইয়্যাযু মিনাল্ গাইজ্; কুল্লামা য় উল্ক্বিয়া ফীহা- ফাওজুন্ সায়ালাহুম্ খাযানাতুহা য় আলাম্ ইয়াতিকুম্ নার্যী।
    Takaadu tamayyazu minal ghaizz kullamaaa ulqiya feehaa fawjun sa alahum khazanatuhaaa alam ya’tikum nazeer

    অর্থ: ক্রোধে তা ছিন্ন ভিন্ন হবার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোনো সতর্ককারী আসেনি’?

    قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ 

    (৯) ক্ব-লূ বালা-ক্বদ্ জ্বা-য়ানা নাযীরুন্ ফাকায্যাব্না-অকুল্না-মা-নায্যালাল্লা-হু মিন্ শাইয়িন্ ইন্ আন্তুম্ ইল্লা-ফী দ্বোয়ালা-লিন্ কার্বী।
    Qaaloo balaa qad jaaa’anaa nazeerun fakazzabnaa wa qulnaa maa nazzalal laahu min shai in in antum illaa fee dalaalin kabeer

    অর্থ: তারা বলবে, ‘হ্যা, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা (তাদেরকে) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’।

    وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ

    (১০) অক্ব-লূ লাও কুন্না নাস্মা‘ঊ আও না’ক্বিলু মা-কুন্না ফী য় আছ্হা-বিস্ সা‘র্ঈ।
    Wa qaaloo law kunnaa nasma’u awna’qilu maa kunnaa feee as haabis sa’eer

    অর্থ: আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।

    فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقًا لِأَصْحَابِ السَّعِيرِ

    (১১) ফা’তারাফূ বিযাম্বিহিম্ ফাসুহ্ক্বল্ লিআছ্হা-বিস্ সা‘র্ঈ।
    Fa’tarafoo bizambihim fasuhqal li as haabis sa’eer

    অর্থ: অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব, ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য।

    إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

    (১২) ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখ্শাওনা রব্বাহুম্ বিল্গইবি লাহুম্ মাগ্ফিরতুঁও অআজরুন্ কার্বী।
    Innal lazeena yakhshawna rabbahum bilghaibi lahum maghfiratunw wa ajrun kabeer

    অর্থ: নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।

    وَرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

    (১৩) অআর্সিরূ ক্বওলাকুম্ আওয়িজহারূ বিহ্; ইন্নাহূ ‘আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূর।
    Wa asirroo qawlakum awijharoo bih; innahoo ‘aleemum bizaatis sudoor

    অর্থ: আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন কর অথবা তা প্রকাশ কর, নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে সম্যক অবগত।

    أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ

    (১৪) আলা-ইয়া’লামু মান্ খলাক; অহুওয়াল্ লাত্বীফুল্ খর্বীর।
    Alaa ya’lamu man khalaqa wa huwal lateeful khabeer

    অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষদর্শী, পূর্ণ অবহিত।

    هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِنْ رِزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

    (১৫) হুওয়াল্লাযী জ্বা‘আলা লাকুমুল্ র্আদ্বোয়া যালূলান্ ফা ম্শূ ফী মানা-কিবিহা-অকুলূ র্মি রিয্ক্বিহ্; অইলাইহিন্ নুর্শূর।
    Huwal lazee ja’ala lakumul arda zaloolan famshoo fee manaakibihaa wa kuloo mir rizqih; wa ilaihin nushoor

    অর্থ: তিনিই তো তোমাদের জন্য জামিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিজিক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।

    أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ

    (১৬) আ আমিন্তুম্ মান্ ফিস্ সামা-য়ি আইঁয়্যাখ্সিফা বিকুমুল্ র্আদ্বোয়া ফা ইযা-হিয়া তামূর।)
    ‘A-amintum man fissamaaa’i aiyakhsifa bi kumul arda fa izaa hiya tamoor

    যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ জমিন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে

    أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ

    (১৭) আম্ আমিন্তুম্ মান্ ফিস্ সামা-য়ি আইঁ ইর্য়ুসিলা ‘আলাইকুম্ হা-ছিবা-; ফাসাতা’লামূনা কাইফা নার্যীর।
    Am amintum man fissamaaa’i ai yursila ‘alaikum haasiban fasata’lamoona kaifa nazeer

    অর্থ: যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের ওপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?

    وَلَقَدْ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ

    (১৮) অলাক্বদ্ কায্যাবাল্ লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফাকাইফা কা-না নার্কীর।
    Wa laqad kazzabal lazeena min qablihim fakaifa kaana nakeer

    অর্থ: আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান (এর শাস্তি)?

    أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ

    (১৯) আওয়া লাম্ ইয়ারও ইলাতত্বোয়াইরি ফাওক্বহুম্ ছোয়া-ফ্ফা-তিঁও অইয়াকবিদন্; মা -ইয়ুম্সিকুহুন্না ইর্ল্লা রহ্মা-ন্; ইন্নাহূ বিকুল্লি শাইয়িম্ বার্ছীর।
    Awalam yaraw ilat tairi fawqahum saaaffaatinw wa yaqbidn; maa yumsikuhunna il’lar rahmaan; innahoo bikulli shai in baseer

    অর্থ: তারা কি লক্ষ্য করেনি তাদের উপরস্থ পাখিদের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া অন্য কেউ এদেরকে স্থির রাখে না। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।

    أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُنْدٌ لَكُمْ يَنْصُرُكُمْ مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ 

    (২০) আম্মান্ হা-যাল্ লাযী হুওয়া জুন্দুল্ লাকুম্ ইয়ান্ছুরুকুম্ মিন্ দূর্নি রহ্মা-ন্; ইনিল্ কা-ফিরূনা ইল্লা-ফী গুর্রূর।
    Amman haazal lazee huwa jundul lakum yansurukum min doonir rahmaan; inilkaafiroona illaa fee ghuroor

    অর্থ: পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি আর কোনো সৈন্য আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করবে? কাফিররা শুধু তো ধোঁকায় নিপতিত।

    أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ بَلْ لَجُّوا فِي عُتُوٍّ وَنُفُورٍ

    (২১) আম্মান্ হা-যাল্ লাযী ইর্য়াযুকুকুম্ ইন্ আম্সাকা রিয্কাহূ বাল্ লাজ্বজু ফী ‘উতুয়িঁও অনুর্ফূ।
    Amman haazal lazee yarzuqukum in amsaka rizqah; bal lajjoo fee ‘utuwwinw wa nufoor

    অর্থ: অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিজিক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিজিক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় নিমজ্জিত হয়ে আছে।

    أَفَمَنْ يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمَّنْ يَمْشِي سَوِيًّا عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

    (২২) আফামাইঁ ইয়াম্শী মুকিব্বান, ‘আলা-ওয়াজহিহী য় আহ্দা য় আম্মাইঁ ইয়াম্শী সাওয়িয়্যান্ ‘আলা-ছির-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।
    Afamai yamshee mukibban ‘alaa wajhihee ahdaaa ammany yamshee sawiyyan ‘alaa siratim mustaqeem

    অর্থ: যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের ওপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হেদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?

    قُلْ هُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ

    (২৩) কুল্ হুওয়াল্ লাযী য় আন্ শায়াকুম্ অজ্বা‘আলা লাকুমুস্ সাম্‘আ অল্ আব্ছোয়া-র অল্ আফ্য়িদাহ্; ক্বলীলাম্ মা-তাশ্কুরূন্।
    Qul huwal lazee ansha akum wa ja’ala lakumus sam’a wal absaara wal af’idata qaleelam maa tashkuroon

    অর্থ: বলো, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর’।

    قُلْ هُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

    (২৪) কুল্ হুওয়াল্ লাযী যারয়াকুম্ ফিল্ র্আদ্বি অইলাইহি তুহ্শারূন্।
    Qul huwal lazee zara akum fil ardi wa ilaihi tuhsharoon

    অর্থ: বলো, ‘তিনিই তোমাদেরকে জমিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে’।

    وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ

    (২৫) অইয়াকুলূনা মাতা হা যাল্ ওয়া’দু ইন্ কুনতুম ছোয়া-দিক্বীন।
    Wa yaqooloona mataa haazal wa’du in kuntum saadiqeen

    অর্থ: আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।

    قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ

    (২৬) কুল ইন্নামাল্ ই’ল্মু ই’ন্দাল্লা-হি ইন্নামা য় আনা নাযীরুম মুবীন।
    Qul innamal ‘ilmu ‘indallaahi wa innamaaa ana nazeerum mubeen

    অর্থ: বলো, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’

    فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَذَا الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تَدَّعُونَ

    (২৭) ফালাম্মা- রায়াওহু যুল্ফাতান্ সী-য়াত্ উজুহুল্ লাযীনা কাফারূ অক্বীলা হা-যাল্ লাযী কুন্তুম্ বিহী তাদ্দা‘ঊন্।
    Falaammaa ra-awhu zulfatan seee’at wujoohul lazeena kafaroo wa qeela haazal lazee kuntum bihee tadda’oon

    অর্থ: অতঃপর তারা যখন তা আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই হলো তা, যা তোমরা দাবী করছিলে’।

    قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِيَ اللَّهُ وَمَنْ مَعِيَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَنْ يُجِيرُ الْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

    (২৮) কুল্ আরয়াইতুম্ ইন্ আহ্লাকানিয়াল্লা-হু অমাম্ মা’ইয়া আও রহিমানা-ফামাইঁ ইয়ুজ্বীরুল্ কা-ফিরীনা মিন্ ‘আজা-বিন্ আলীম্।
    Qul ara’aytum in ahlaka niyal laahu wa mam ma’iya aw rahimanaa famai-yujeerul kaafireena min ‘azaabin aleem

    অর্থ: বলো, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি’? যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গে যারা আছে, তাদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে কে রক্ষা করবে’?

    لْ هُوَ الرَّحْمَنُ آمَنَّا بِهِ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ

    (২৯) কুল্ হুওর্য়া রহ্মা-নু আ-মান্না- বিহী অ‘আলাইহি তাওয়াক্কাল্না-ফাসাতা’লামূনা মান্ হুওয়া ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
    Qul huwar rahmaanu aamannaa bihee wa ‘alaihi tawakkalnaa fasata’lamoona man huwa fee dalaalim mubeen

    অর্থ: বলো, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে’?

    قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَنْ يَأْتِيكُمْ بِمَاءٍ مَعِينٍ

    (৩০) কুল্ আরায়াইতুম্ ইন্ আছ্বাহা মা-য়ুকুম্ গওরন্ ফামাইঁ ইয়া’তীকুম্ বিমা-য়িম্ মা‘ঈন্।
    Qul ara’aytum in asbaha maaa’ukum ghawran famai ya’teekum bimaaa’im ma’een

    অর্থ: বলো, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে’?

    আরো পড়ুন সূরা ফাতিহা, সূরা আল সম্পর্কে।

    সূরা আল-মুলক অডিও :

    ইংরেজি অনুবাদ / English meaning :

    In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful.

    Blessed be He in Whose hands is Dominion; and He over all things hath Power; He Who created Death and Life, that He may try which of you is best in deed: and He is the Exalted in Might, Oft-Forgiving; He Who created the seven heavens one above another: No want of proportion wilt thou see in the Creation of (Allah) Most Gracious. So turn thy vision again: seest thou any flaw?



    Again turn thy vision a second time: (thy) vision will come back to thee dull and discomfited, in a state worn out. And we have, (from of old), adorned the lowest heaven with Lamps, and We have made such (Lamps) (as) missiles to drive away the Evil Ones, and have prepared for them the Penalty of the Blazing Fire. For those who reject their Lord (and Cherisher) is the Penalty of Hell: and evil is (such), Destination. When they are cast therein, they will hear the (terrible) drawing in of its breath even as it blazes forth. Almost bursting with fury: Every time a Group is cast therein, its Keepers will ask, “Did no Warner come to you?”

    They will say: “Yes indeed; a Warner did come to us, but we rejected him and said, ´Allah never sent down any (Message): you are nothing but an egregious delusion!’” They will further say: “Had we listened or used our intelligence, we should not (now) be among the Companions of the Blazing Fire!” They will then confess their sins: but far will be (Forgiveness) from the Companions of the Blazing Fire! As for those who fear their Lord unseen, for them is Forgiveness and a great Reward. And whether you hide your word or publish it, He certainly has (full) knowledge of the secrets of (all) hearts. Should He not know,- He that created? and He is the One that understands the finest mysteries (and) is well-acquainted (with them). It is He Who has made the earth manageable for you, so traverse you through its tracts and enjoy the Sustenance which He furnishes: but unto Him is the Resurrection.

    Do you feel secure that He Who is in heaven will not cause you to be swallowed up by the earth when it shakes (as in an earthquake)? Or do you feel secure that He Who is in Heaven will not send against you a violent tornado (with showers of stones), so that you shall know how (terrible) was My warning? But indeed men before them rejected (My warning): then how (terrible) was My rejection (of them)? Do they not observe the birds above them, spreading their wings and folding them in? None can uphold them except (Allah) Most Gracious: Truly (Allah) Most Gracious: Truly it is He that watches over all things. Nay, who is there that can help you, (even as) an army, besides (Allah) Most Merciful? In nothing but delusion are the Unbelievers. Or who is there that can provide you with Sustenance if He were to withhold His provision? Nay, they obstinately persist in insolent impiety and flight (from the Truth).

    Is then one who walks headlong, with his face grovelling, better guided,- or one who walks evenly on a Straight Way? Say: “It is He Who has created you (and made you grow), and made for you the faculties of hearing, seeing, feeling and understanding: little thanks it is you give. Say: “It is He Who has multiplied you through the earth, and to Him shall you be gathered together.” They ask: When will this promise be (fulfilled)? – If you are telling the truth. Say: “As to the knowledge of the time, it is with Allah alone: I am (sent) only to warn plainly in public.” At length, when they see it close at hand, grieved will be the faces of the Unbelievers, and it will be said (to them): “This is (the promise fulfilled), which you were calling for!”

    Say: “See you?- If Allah were to destroy me, and those with me, or if He bestows His Mercy on us,- yet who can deliver the Unbelievers from a grievous Penalty?” Say: “He is (Allah) Most Gracious: We have believed in Him, and on Him have we put our trust: So, soon will you know which (of us) it is that is in manifest error.” Say: See you?- If your stream be some morning lost (in the underground earth), who then can supply you with clear-flowing water?

    সূরা আল-মুলক এর শানে নুযূল

    পবিত্র নগরী মক্কায় অবর্তীণ সূরা আল-মুলক কুরআনুল কারিমের ৬৭তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৩০। রুকু ২। কুরআন তেলাওয়াত আমলকারীদের জন্য সূরাটি অনেক ফজিলতপূর্ণ। সূরা আল-মুলক তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার আগ পর্যন্ত সুপারিশ করত থাকে।

    এ সূরাটিতে একদিকে ইসলামী শিক্ষার মূল বিষয়সমূহ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে যেসব লোক বেপরোয়া ও অমনোযোগী ছিল তাদেরকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে সজাগ করে দেয়া হয়েছে। মক্কী জীবনের প্রথম দিকে নাযিল হওয়া সূরাসমূহের বৈশিষ্ট হলো, তাতে ইসলামের গোটা শিক্ষা ও রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী করে পাঠানোর উদ্দেশ্য সবিস্তারে নয় বরং সংক্ষেপ্তভাবে বর্ণন করা হয়েছে। ফলে তা ক্রমান্বয়ে মানুষের চিন্তা-ভাবনায় বদ্ধমূল হয়েছে। সেই সাথে মানুষের বেপরোয়া মনোভাব ও অমনোযোগিতা দূর করা, তাকে ভেবে চিন্তে দেখতে বাধ্য করা এবং তার ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

    প্রথম পাঁচটি আয়াতে মানুষের এ অনুভূতিকে জাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, যে বিশ্বলোকে সে বাস করছে তা এক চমৎকার সুশৃংখ ও সুদৃঢ় সাম্রাজ্য। হাজারো তালাশ করেও সেখানে কোন রকম দোষ-ত্রুটি , অসম্পূর্ণতা, কিংবা বিশৃংখলার সন্ধান পাওয়া যাবে না। এক সময় এ সাম্রাজ্যের কোন অস্তিত্ব ছিল না। মহান আল্লাহই একে অস্তিত্ব দান করেছেন , এর পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও শাসনকার্যের সমস্ত ইখতিয়ার নিরংকুশভঅবে তারই হাতে। তিনি অসীম কুদরতের অধিকারী। এর সাথে মানুষের একথাও বলে দেয়া হয়েছে যে, এ পরম জ্ঞানগর্ভ ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থাসঙ্গত ব্যবস্থার মধ্যে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করা হয়নি। বরং এখানে তাকে পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার শুধু সৎকর্ম দ্বারাই সে এ পরীক্ষায় সফলতা লাভ করতে সক্ষম।

    আখেরাতে কুফরীর যে ভয়াবহ পরিণাম দেখা দেবে ৬ থেকে ১১ নং আয়াতে তা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর নবীদের পাঠিয়ে এ দুনিয়াতেই সে ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সামাধান করে দিয়েছেন। এখন তোমরা যদি এ পৃথিবীতে নবীদের কথা মনে নিয়ে নিজেদের আচরণ ও চাল-চলন সংশোধন না করো তাহলে আখেরাতে তোমরা নিজেরাই একথা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, তোমাদের যে শাস্তি দেয়া হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তোমরা তার উপযোগী।

    ১২থেকে ১৪ নং আয়াতে এ পরম সত্যটি বুঝানো হয়েছে যে, স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে বেখবর থাকতে পারেন না। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য প্রত্যেকটি কাজ ও কথা এমনকি তোমাদের মনের কল্পনাসমূহ পর্যন্ত অবগত। তাই নৈতিকতার সঠিক ভিত্তি হলো, মন্দ কাজের জন্য দুনিয়াতে পাকড়াও করার মত কোন শক্তি থাক বা না থাক এবং ঐ কাজ দ্বারা দুনিয়াতে কোন ক্ষতি হোক বা না হোক , মানুষ সবসময় অদৃশ্য আল্লাহর সামনে জবাবদিহির ভয়ে সব রকম মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে। যারা এ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করবে আখেরাতে তারাই বিরাট পুরস্কার ও ক্ষমালাভের যোগ্য বলে গণ্য হবে। 

    ১৫ থেকে ২৩ নং আয়াতে পরপর কিছু অবহেলিত সত্যের প্রতি ইংগিত দিয়ে সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার আহবান জানানো হয়েছে। এগুলোকে মানুষ দুনিয়ায় নিত্য নৈমিত্তিক সাধারণ ব্যাপার মনে করে সন্ধানী দৃষ্টি মেলে দেখে না। বলা হয়েছে, এ মাটির প্রতি লক্ষ্য করে দেখো। এর ওপর তোমরা নিশ্চিন্তে আরামে চলাফেরা করছো এবং তা থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় রিযিক সংগ্রহ করছো। আল্লাহ তা’আলাই এ যমীনকে তোমাদের আনুগত করে দিয়েছেন। তা না হলে যে কোন সময় এ যমীনের ওপর ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে তা তোমাদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। কিংবা এমন ঝড়- ঝাঞ্চা আসতে পারে যা তোমাদের সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেবে। মাথার ওপরে উড়ন্ত পাখীগুলোর প্রতি লক্ষ করো। আল্লাহই তো ওগুলোকে শূন্যে ধরে রাখেন। নিজেদের সমন্ত উপায়-উপকরণের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ করে দেখো। আল্লাহ যদি তোমাদের শাস্তি দিতে চান তাহলে এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারে? আর আল্লাহ যদি তোমাদের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেন, তাহলে এমন কে আছে, যে তা খুলে দিতে পারে? তোমাদেরকে প্রকৃত সত্য জানিয়ে দেয়ার জন্য এগুলো সবই প্রস্তুত আছে। কিন্তু এগুলোকে তোমরা পশু ও জীব-জন্তুর দৃষ্টিতে দেখে থাকো। পশুরা এসব দেখে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মানুষ হিসেবে আল্লাহ তোমাদেরকে যে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং চিন্তা ও বোধশক্তি সম্পন্ন মস্তিষ্ক দিয়েছেন , তা তোমরা কাজে লাগাও না। আর এ কারণেই তোমরা সঠিক পথ দেখতে পাও না।

    ২৪ থেকে ২৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, অবশেষে একদিন তোমাদেরকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে। নবীর কাজ এ নয় যে, তিনি তোমাদেরকে সেদিনটির আগমনের সময় ও তারিখ বলে দেবেন। তার কাজ তো শুধু এতটুকু যে, সেদিনটির আসার আগেই তিনি তোমাদের সাবধান করে দেবেন। আজ তোমরা তার কথা মানছো ন। বরং ঐ দিনটি তোমাদের সামনে হাজির করে দেখিয়ে দেয়ার দাবী করছো। কিন্তু যখন তা এসে যাবে এবং তোমরা তা চোখের সামনে হাজির দেখতে পাবে তখন তোমরা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে।

    ২৮ থেকে ২৯ নং আয়াতে মক্কার কাফেরদের কিছু কথার জবাব দেয়া হয়েছে। এসব কথা তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সংগী-সাথীদের বিরুদ্ধে বলতো। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিতো এবং তাঁর ও ঈমানদারদের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য বদ দোয়া করতো। তাই বলা হয়েছে যে, তোমাদেরকে সৎপথের দিকে আহবানকারীরা ধ্বংস হয়ে যাক বা আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুক তাতে তোমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন কি করে হবে? তোমরা নিজের জন্য চিন্তা করো। আল্লাহর আযাব যদি তোমাদের ওপর এসে পড়ে তাহলে কে তোমাদেরকে রক্ষা করবে? যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং যাঁরা তাঁর ওপরে তাওয়াক্কুল করেছে তোমরা মনে করছো তারা গোমরাহ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন প্রকৃত গোমরাহ কারা তা প্রকাশ হয়ে পড়বে।

    অবশেষে মানুষের সমানে একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে এবং সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে দেখতে বলা হয়েছেঃ মরুভূমি ও পবর্তময় আরবভূমিতে যেখানে তোমাদের জীবন পুরোটাই পানির ওপর নির্ভরশীল, পানির এসব ঝরণা ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছে। এসব জায়গায় পানির উৎসগুলো যদি ভুগর্ভের আরো নীচে নেমে উধাও হয়ে যায় তাহলে আর কোন শক্তি আছে, যে এই সঞ্জীবনী-ধারা তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে।

    এছাড়াও ইসলামিক প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

    সূরা আল-মুলক এর ফজিলত

    প্রতিদিন (রাতে যেকোনো এক সময়) সূরা মুলক তেলাওয়াত করা মর্তবাপূর্ণ একটি সুন্নতঃ

    “রাসুলুল্লাহ (সাঃ), আলিফ লাম মীম তানজিলুল কিতাব (সূরা আস-সাজদা) ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (সূরা মুলক) তেলাওয়াত না করে কোনদিন ঘুমাতেন না”।

    সুনানে আত-তিরমিযী ২৮৯২, মুসনাদে আহমাদ ১৪২৯। শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ, সহীহ তিরমিযী ৩/৬।
    যে ব্যক্তি সূরা আল-মূলক নিয়মিত প্রতিদিন তেলাওয়াত করলে কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা পাবে।

    আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ

    “যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতের বেলা তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক (সূরা মুলক) তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর যামানায় এই সূরাটিকে আমরা “আল-মা’আনিয়াহ” বা সুরক্ষাকারী বলতাম। যে রাতের বেলা এই সূরাটি পড়বে সে খুব ভালো একটা কাজ করলো”।

    সুনানে আন-নাসায়ী ৬/১৭৯। শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি হাসান সহীহ, সহীহ আত-তারগীব ওয়াল তারহীব ১৪৭৫।

    এই সূরা প্রত্যেকদিন রাতের বেলা পাঠ করলে কিয়ামতের দিন শাফায়াত করে জান্নাতে নিয়ে যাবে ইন শা’ আল্লাহঃ

    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ

    “কুরআনে এমন একটা সূরাআছে যার মধ্যে ৩০টা আয়াত রয়েছে যেটা একজন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর সেটা হলো তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (সূরা মুলক)”।

    সুনানে আত-তিরমিযী ২৮৯১, সুনানে আবু দাউদ ১৪০০, মুসনাদের আহমাদ, ইবনে মাজাহ ৩৭৮৬।

    ইমাম তিরমিযী বলেছেন হাদীসটি হাসান, ইবনে তাইমিয়্যা বলেছেন সহীহ মাজমু ২২/২২৭, শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ, সহীহ তিরমিযী ৩/৬, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩০৫৩।

    হাশরের ময়দানে স্বয়ং কুরআন যখন আপনার বন্ধু হয়ে আপনার সুপারিশ করবে এর চাইতে বর পাওয়া আর কি হতে পারে।

    আরো জানতে পড়ুন সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত : বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, আরবি অডিও, ফজিলত

    সূরা আল-মুলক তেলাওয়াতের সময়

    সূরা মুলক রাতের বেলা পড়া উত্তম, তবে অন্য যেকোনো সময়ও পড়া যাবে। সূরাটি অর্থ বুঝে নিয়মিত পড়ায় রয়েছে অনন্য তাৎপর্য। এই সূরা নামাজের সঙ্গে পড়াও উত্তম। মুখস্ত না থাকলে দেখে দেখে অর্থ বুঝে পড়লে বিশেষ সাওয়াব পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে-

    - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা মুলক তেলাওয়াত না করে রাতে ঘুমাতে যেতেন না।’ (তিরমিজি)
    
    - হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলিফ লাম মীম তানযিল ও তাবারাকাল্লাজি না পড়ে কখনো ঘুমাতে যেতেন না।’
    
    - সূরা মূলক ৪১ বার (একচল্লিশ) পাঠ করলে সব বিপদ-আপদ হতে রক্ষা পাওয়া যায় এবং ঋণ পরিশোধ হয়। এ সূরা পাঠে কবরের আজাব থেকেও বাঁচা যায়।
    

    উল্লেখ্য যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা মুলক না পড়ে ঘুমাতে যেতেন না মর্মে বর্ণনার উপর ভিত্তি করেই আলেম-ওলামা ও বুজুর্গানে দ্বীনগণ ইশার নামাজের পর সূরা মুলকের তেলাওয়াতের আমল করার কথা বলেন। সুতরাং রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা ইশার নামাজের পরে বুঝে বুঝে সূরা মূলক (Surah Al-Mulk): বাংলা অনুবাদ উচ্চারণ অর্থ আরবি অডিও ফযিলত এবং শানে নুযূল পড়া যেতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সূরা মুলকের আমল নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। মুহাম্মদ (সাঃ) এর সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন। 


    পোস্টটি শেয়ার করুন !

    কপিরাইট © 2021 BDBasics || সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত